চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আগে তাদের মধ্যকার স্নায়ুর লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে ভারাক্রান্ত হচ্ছে। অতীতের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠেয় আজকের লড়াইটিও চরম উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
পাকিস্তান কোচ ওয়াকার ইউনিসও স্বীকার করেছেন, অতীত ম্যাচগুলোতে দুই দলের মাঝে অনেক কঠিন লড়াই হয়েছে। তাই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের জন্যও আরো একটি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করছেন তিনি।
ওয়াকার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে আমি তিক্ত প্রতিপক্ষ বলবো না। তবে এক ধরনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, যার ফলে কঠিন একটা খেলা হওয়া উচিত।’ ক্রিকেটের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন ওয়াকার আরো বলেন,‘আমরা একে অপরকে সম্মান করি, তবে মাঠের লড়াইয়ে কোনো ছাড় দেই না।’
পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু ১৯৮১ সাল থেকে। সেবার পার্থে অনুষ্ঠিত টেস্টে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদতো অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার ডেনিস লিলিকে মেরে বসতে যাচ্ছিলেন প্রায়। মিয়াঁদাদ একটি রান নিতে যাওয়ার সময় লিলি জেনেশুনেই তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিলেন। মিয়াঁদাদ এই ঘটনায় লিলিকে ধাক্কা মারেন এবং ব্যাট হাতে তাকে মারার হুমকি দিয়েছিলেন।
লিলি আম্পায়ারের সামনেই মিয়াঁদাদকে লাথি মারেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে আম্পায়ার ও ফিল্ডাররা হস্তক্ষেপ করে ব্যাপারটা সামাল দেন। এই ঘটনার জন্য লিলিকে জরিমানা করা হলেও ঝগড়াটে পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছিল সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো।
ঘটনাটিকে মিয়াঁদাদ নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা ভুলে যাওয়া অনেক কঠিন। টেস্টে এটাই আমাদের তিক্ত ইতিহাস। তবে আমি মনে করি, এটা ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
মিয়াঁদাদ ১৯৮৮ সালে আবারো অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ক্ষেপেছিলেন। সেবার বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ের জের ধরে অস্ট্রেলিয়ানরা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানালে মিয়াঁদাদ অজিদের পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তাদের উচিত তল্পি-তল্পা গুটিয়ে বাড়ি চলে যাওয়া।’ —এএফপি
