এবার রাজশাহী জেনারেল পোস্ট অফিসে (জিপিও) বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ককটেল হামলা হয়েছে। এতে জিপিওর একটি জানালার কাঁচ ভেঙ্গে গেছে। ঘটনার পর দৌড়াতে দেখে জনতা সন্দেহভাজন হিসেবে ফরিদুল হোসেন ওরফে রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আহত অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি নগরীর কাজিহাটার আবদুল কুদ্দুসের ছেলে এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তিনি নিজেকে একজন ওষুধের ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারি কমিশনার (এসি) ইফতেখায়ের আলম গণপিটুনির শিকার ফরিদুলের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, ১৮ মার্চ রাজশাহী আদালত চত্বরে এবং ১৭ মার্চ রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে একইভাবে ককটেল হামলা চালানো হয়। এরআগে ১২ মার্চ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল হামলায় কারারক্ষী মিজানুর রহমান আহত হন।
জিপিওর কর্মচারীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে তারা জিপিও ভবনের উত্তর পাশে একটি কক্ষে ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। এ সময় উত্তর পাশের দেয়ালের কাছে বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তারা দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাবার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় একটি জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। তবে ওই কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনাস্থলে জানালার পাশে ককটেলের অংশ বিশেষে জড়ানো লাল রঙের টেপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলার পর ভবনের উত্তর পাশ দিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা ফরিদুলকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তারা নগরের লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে।
এদিকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফরিদুল দাবি করেন, তিনি ককটেল ছুড়েননি। দৌঁড়ে পালানোর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি ছেলে ককটেল ছুড়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল। তা দেখে তিনিও ভয়ে দৌঁড়ে পালাচ্ছিলেন। কারণ, তাকে যদি সন্দেহ করে ধরে ফেলে। ফরিদুলের পায়ে ফিতা বাঁধা কালো রঙের কেডস এবং পরনে প্যান্ট ছিল। তার দাবি, তিনি ওষুধের ব্যবসা করেন। তবে তার কাছে ওষুধের কোনো ব্যাগ ছিল না। রাজপাড়া থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চঞ্চল মাহমুদ বিকেলে জানান, আহত হওয়ায় ফরিদুলকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
