কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই বিশ্ব আসরে চ্যাম্পিয়ন হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষকদের মধ্যে বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রসঙ্গক্রমে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এগিয়ে যাওয়ার সেই শক্তি ও সাহস এদেশের জনগণের রয়েছে। তারা অসাধ্য সাধন করতে পারে।
বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বিঘ্নিত ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, একটি রাজনৈতিক জোটের হরতাল-অবরোধে দেশের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে এই অশুভ শক্তি বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সকল ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিতে সাহস ও শক্তি দিয়ে বিদ্যমান বাধা অতিক্রম করবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে একটি মহলের সমালোচনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ যখন টেস্ট ম্যাচে কোয়ালিফাই করেছিল তখনো তারা আমাদের সমালোচনা করেছিলেন।
গবেষণায় জড়িতদের বিশেষ ভাতা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ শ্রম ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা আজকে যা কিছু উপভোগ করছি সেটি কিন্তু গরীব কৃষকের অবদান, গরীব শ্রমিকের অবদান, একথা কখনো ভুলে গেলে চলবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞানের চর্চা ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু, সাশ্রয়ী ও টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব না। তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাই-টেক পার্কের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ও স্থাপন করা হবে।
মেলবোর্ন ক্রিকেট কাউন্সিল (এমসিসি) মাঠে বাংলাদেশের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলায় ভারতের তৃতীয় উইকেটের পতনের খবর আসার সঙ্গে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালির মাঝে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। আমরা একদিন অবশ্যই বিশ্বকাপ জিতবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। এ সকল কর্মসূচির মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি হালনাগাদ করা হয়, শিল্প গবেষণা জোরদার করা হয় এবং কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব দেয়ার অংশ হিসেবে সবুজ বিপ্লব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও মানসিকতা ভিত্তিক একটি জাতি গঠন করতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকার প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং জ্ঞানভিত্তিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা চালাতে বিজ্ঞান ও আইসিটিতে ৮৬ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ চালু করেছে। পাশাপাশি এম-ফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টোরাল স্টাডিজের জন্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় থেকে ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিকুলামে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয় যোগ করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহায়তা দেয়ার সুফল ইতিমধ্যেই দেশ পেয়েছে। পাটের বংশগতি আবিষ্কারের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ পাট সেক্টরের জন্য এক নতুন সুযোগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়াররা সফটওয়্যার তৈরি করে বিদেশ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সরকারি সহায়তা খাদ্য উত্পাদনে স্বাবলম্বিতা অর্জনে এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট-এর ওপর গবেষণায়, খরা সহিষ্ণু ধান আবিষ্কারের ও পরিবেশবান্ধব সার উত্পাদনে সফলতা অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন একই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
