ক্যাচ ধরেই উল্লাস শুরু করেছিলেন ইমরুল কায়েস। উল্লাসে যোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ দল, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকরা। ধারাভাষ্যকাররাও চিত্কার করে বলছিলেন—বাংলাদেশ খেলার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু হায়!
সব উল্লাস থেমে গেল আম্পায়ারের এক ‘নো বল’-এর ইশারায়। হতভম্ব হয়ে সেই ইশারার দিকে চেয়ে রইলেন রুবেল হোসেন। হতভম্ব হয়ে ধারাভাষ্যকার শেন ওয়ার্ন বললেন, ‘এটা অসম্ভব।’ আসলে হতভম্ব হয়ে গেল ক্রিকেট দুনিয়ায়ই। গতকাল বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার বিপক্ষে রুবেল হোসেনের করা বলটাকে নো বল বলে ঘোষণা করে পুরো দুনিয়াকেই সমালোচনামুখর ও বিস্মিত করে দিয়েছেন আম্পায়াররা। এরপর আরও এক দফা বিস্ময় উপহার দিয়ে মাহমুদউল্লাহর ছক্কাকে আউট বানিয়ে দিয়েছেন তারা! এ নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে, ফেসবুকে, টুইটারে, ক্রিকেট আলোচনায় রীতিমতো সমালোচনার ঝড় চলছে।
প্রথমত রুবেল হোসেনের যে বলটা নিয়ে এতো আলোচনা, সেই বলটা কিছুতেই কোমর উচ্চতায় ছিলো না। ক্যাচ তুলে দেওয়া ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা প্রায় দু পা এগিয়ে আশার পরও বল ছিল তার কোমরের নিচেই। ফলে নিয়ম অনুযায়ীই নব্বই রানে থাকা রোহিত শর্মা সে সময় আউট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ইয়ান গৌল্ড ‘নো’ ডাকায় তা হয়নি। এটাকে ‘মানবিক ভুল’ বলে ধরে নেওয়া যেত। কিন্তু সেটা ক্রিকেট বিশ্ব করতে পারছে না গৌল্ড একেবারে নিয়মের লঙ্ঘন করে নো বল ঘোষণার দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়ে নেওয়ায়। কোমর উচ্চতা বিষয়ক নো বল ঘোষণার দায়িত্ব থাকে মূলত স্কয়ার লেগ আম্পায়ারের ওপর। তিনি আগে এই সিদ্ধান্ত দেন। তারপর যদি খুব আঁটসাঁট সিদ্ধান্ত হয়, একবার থার্ড আম্পায়ারের দৃষ্টিভঙ্গি জেনে তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন স্ট্রাইক প্রান্তের আম্পায়ার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এই রীতির একটুও অনুসরণ করা হয়নি। ইয়ান গৌল্ড বল বাতাসে থাকা অবস্থায়ই তড়িঘড়ি নো বল ঘোষণা করেন।
ঘটনা এখানেই শেষ হলে কথা ছিলো না। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় আবার পুনরাবৃত্তি ঘটে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এবং বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যখন সবে রানের চাকা ঘোরাতে শুরু করেছেন, তখন তিনি এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের স্বীকার হলেন। রিয়াদ বল উড়িয়ে মেরেছিলেন। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরেছিলেন শিখর ধাওয়ান। কিন্তু রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেল ধাওয়ানের হাতে যখন বল, তখনই তার পা স্পর্শ করে ফেলেছে বাউন্ডারি!
এই দুই সিদ্ধান্তের বলি হয়েছে বাংলাদেশ দল।
মনে হতে পারে, এই দুই সিদ্ধান্তে কী করে ফলাফল বদলে যায়? আসলে যায়। দুটো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে খেলার মোড় যখন ঘুরছিল, তখন। বাংলাদেশ যখন ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপকে চেপে ধরেছে, আরেকটা উইকেট হলেই ম্যাচ হাতে চলে আসে; তখন রোহিত শর্মাকে নটআউট জানিয়ে আসলে তাদের ব্যাটিংয়ে প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মানসিকভাবে খেলোয়াড়রা রীতিমতো ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। এরপর আবার যখন ব্যাটিংয়ে দেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান চাকাটা ঘোরাতে শুরু করেছেন, তখন এলো পরের সিদ্ধান্ত।
এই দুই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ যে ম্যাচ হেরেছে, সে ব্যাপারে মত প্রকাশ করেছেন ভারতীয় সাবেক দুই কিংবদন্তি ভিভিএস লক্ষ্মণ, সৌরভ গাঙ্গুলী থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন, ক্যারিবীয় গ্রেট মাইকেল হোল্ডিং, সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেন, সাবেক নিউজিল্যান্ড গ্রেট মার্টিন ক্রোর মতো মানুষরা।
