রেহানার কোন ছবি নেই, নেই আর কোন স্মৃতিচিহ্ন, এই জামা কেবল নীরব সাক্ষী হয়ে আছে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার
জাদুঘরে রয়েছে পরাজিত পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্রের নমুনা, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পড়ে থাকা বুদ্ধিজীবীদের লাশের আলোকচিত্র, হাড়গোড়সহ নানা নিদর্শন
স্মৃতি বলতে রেহানার রক্তমাখা ছোট জামাটি। কাঁচের ফ্রেমে বাঁধিয়ে তাই আগলে মুক্তিযোদ্ধা বাবা বেঁচে ছিলেন এতদিন। কি যে ভয়ানক কষ্ট।
১৯৭১’র ৩০ এপ্রিল খুলনার দীঘলিয়া থানার সেনহাটি গ্রামে পাকবাহিনী যখন ৪ মাস বয়সী রেহানাদের বাড়ি ঘেরাও করে তখন তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা আব্দুস সালাম খান বাড়িতে ছিলেন না। পিতাকে না পেয়ে বর্বর পাকবাহিনী শিশু রেহানাকে উঠানে ফেলে পায়ের নীচে পিষে নির্মমভাবে হত্যা করে। তখন রেহানার পরনে ছিল এই জামা। রেহানার কোন ছবি নেই, নেই কোন স্মৃতিচিহ্ন, এই জামা কেবল নীরব সাক্ষী হয়ে আছে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার, একটি মৃত্যুর...।
এমনি মুক্তিযুদ্ধের হাজারো স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে গড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। যুদ্ধের বারুদপোড়া গন্ধ, বধ্যভূমির গলিত লাশ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা এসবের কথাই যেন তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছে এ জাদুঘর। খোঁজ দিয়েছে নিজ শিকড়ের।
কি আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে?
সেগুনবাগিচায় ছিমছাম তিনতলা এক ভাড়া বাড়িতে গড়ে উঠেছে এই জাদুঘর। জাদুঘরের প্রবেশ পথেই রয়েছে শিখা চিরন্তন। রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডাঃ ফজলে রাব্বির ব্যাবহূত গাড়িটি। যিনি গণহত্যায় শিকারদের ব্যাপারে ভুয়া‘ডেথ সার্টিফিকেট’ প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অসম্মতি জানিয়েছিলেন, বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক চিকিত্সা সেবার প্রতিবাদ হিসেবে ‘বেস্ট প্রফেসর অব কম্বাইন্ড পাকিস্তান’ পুরস্কার গ্রহণে।
মূলত: জাদুঘরকে ৬টি গ্যালারিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম গ্যালারিতে বাংলার অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা থেকে স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের সংগ্রামের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার রেপ্লিকা, প্রাচীন আমলের যুদ্ধাস্ত্র, ঢাল বর্মসহ বিভিন্ন দুর্গ ও নকশার প্রতিকৃতিসহ বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।
দ্বিতীয় গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে মূলত পাকিস্তানি শাসনামল থেকে শুরু করে ৭০-এর সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ইতিহাসের পথপরিক্রমাকে কেন্দ্র করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ও যুক্তফ্রন্টের বিজয় থেকে ১৯৬৯ সালের পাকিস্তানের নানা বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নানা সময়ের চিত্র। রয়েছে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হকের ব্যবহূত ঘড়ি ও চিরুনী। রয়েছে সৌখিন এই চিত্রশিল্পীর ব্যবহূত রং-তুলিও।
তৃতীয় গ্যালারিতে রয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ, ১৯৭১ এর উদাত্ত আহ্বানের ছবি ও ঘোষণাপত্র। রয়েছে ২৫ মার্চ কালরাত্রি, পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংস গণহত্যা, লাখ লাখ শরণার্থীর দুর্গতির চিত্র। এছাড়া ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দুর্লভ কয়েকটি আলোকচিত্রও স্থান পেয়েছে এখানে।
এই গ্যালারিতেই রয়েছে জয় বাংলা বেতার কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ। সিরাজগঞ্জের জ্যোতি চৌধুরী ও সাত্তার আলফা নামে দুই তরুণ নিজেদের চেষ্টায় ২৫ মাইল ব্যাসার্ধ জুড়ে বিস্তৃতির ক্ষমতাসম্পন্ন রেডিও ট্রান্সমিটার তৈরি করেছিলেন। ২৮ মার্চ স্বাধীনতার স্বপক্ষে এই বেতারের প্রচার শুরু হয়। চূড়ান্ত বিজয় অবধি এর অনিয়মিত প্রচার অব্যাহত ছিল।
চতুর্থ গ্যালারিতে আছে অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিসভা ও প্রশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিসপত্র ও দলিলাদি, যুদ্ধকালীন বিভিন্ন দুর্লভ আলোকচিত্র। চোখে পড়বে মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনের নানা চিত্র। এই গ্যালারিতেই রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার ব্যবহূত ব্যাগ। যাকে ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে বাড়ির পাশের বাগানে গুলি করে ফেলে গিয়েছিল। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ব্যবহূত শার্ট ও সোয়েটার, অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য এ এইচ এম কামরুজ্জামানের চশমা, পাঞ্জাবী ও পানের বাটা। রয়েছে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ও সেক্টর কমান্ডারদের ব্যবহূত ক্যামেরা, শার্ট, টাই ও চশমা।
এই গ্যালারিতে ঢুকলে চোখে পড়বে একটি বড় ‘দা’। যা দিয়ে সকিনা ওরফে ঘটকী বেগম মুক্তিযুদ্ধে ৫ জন রাজাকারকে ঘায়েল করেন।
চতুর্থ থেকে পঞ্চম গ্যালারিতে যেতে একটি ব্যালকনি। ব্যালকনিতে আছে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্র। সেক্টর কমান্ডার এবং আঞ্চলিক বাহিনীর প্রধান যোদ্ধাদের ছবি সম্বলিত এ মানচিত্রে ১১ সেক্টর নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। রয়েছে তত্কালীন দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদন।
পঞ্চম গ্যালারিতে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকহানাদারদের ব্যবহূত অস্ত্রের এক বিপুল প্রদর্শনী। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহূত এলএমজি, রাইফেল পিস্তল, এন্টি ট্যাংক মাইন, পাকিস্তানি ঘাঁটি থেকে প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর উচ্চতর অফিসারের পদক, মর্টার শেল, ট্যাংক বিধ্বংসী রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র। রয়েছে জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট ফর বাংলাদেশের পোস্টার এবং কনসার্টে রবি শংকর, বব ডিল্যান, রিঙ্গো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টনের গাওয়া গানের রেকর্ড। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সহায়তায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানবতাবাদী বিভিন্ন শিল্পী যেমন : লি ব্রেনন, পেটি থমাস, জন ব্রাউনসহ বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া গানের অডিও ক্যাসেটও সংরক্ষিত আছে।
পাঁচ নম্বর গ্যালারিতে ঢোকার মুখে চোখে পড়ে ১৯৭১ সালের ঢাকা খিলগাঁও রেলগেটের পাশে একটি ডোবায় পড়ে থাকা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাকী ও সহযোদ্ধা বাদলের লাশের চিত্র।
সর্বশেষ এই গ্যালারিতে রয়েছে মিরপুর মুসলিমবাজার ও জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার করা কঙ্কাল, শহীদদের ব্যবহূত বস্তুসামগ্রী, পত্র, ডায়রি , নোটবুক ইত্যাদি। এছাড়া পরাজিত পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্রসম্ভারের নমুনা, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ও তাদের যুদ্ধের বিবরণী, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পড়ে থাকা বুদ্ধিজীবীদের লাশের আলোকচিত্র। রয়েছে আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনীসহ পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র এবং তাদের কাপুরুষোচিত জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞের নিদর্শন।
১৯৯৯ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে মিরপুর ১২নং সেকশনের ডি ব্লকে নূরী মসজিদ সংলগ্ন মুসলিম বাজার বধ্যভূমির একটি পরিত্যক্ত কুয়া থেকে মাথার খুলিসহ পাঁচ শতাধিক হাড় উদ্ধার করা হয়। একই বছর মিরপুর ১০নং সেকশনের ডি ব্লকের ১নং এভিনিউতে জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে ৭০টি মাথার খুলি এবং ৫৩৯২টি ছোট-বড় হাড় পাওয়া যায়। এসব হাড় এ গ্যালারিতে রাখা আছে। এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পূর্ণাঙ্গ বিবরণী সংরক্ষিত আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।
যেভাবে গড়ে উঠল বাঙালির প্রাণের এই জাদুঘর
আটজন ট্রাস্টির অনুদানে প্রতিষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। তারা হলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী যাকের, সারা যাকের, স্থপতি রবিউল হুসাইন, লেখক মফিদুল হক, প্রকৌশলী জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, আক্কু চৌধুরী ও ডা. সারওয়ার আলী ।
জিয়াউদ্দিন তারিক আলী বলেন, স্বাধীনতার পর বিশেষ করে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দেখতে পেলাম মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, অসামপ্রদায়িক চিন্তাভাবনা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভাবলাম আর না। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেব। নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরব। এভাবেই ১৯৯২ সাল থেকেই ভাবনাচিন্তার শুরু। তবে শুরুতেই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হিসেবে যাত্রা হয়নি। হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ট্রাস্ট হিসেবে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথমেই কুমিল্লার কসবায় গেলাম। যেখানে টানা ৯ মাস ধরে যুদ্ধ হয়েছে। সেখানে একটি কবরস্থান পেলাম। যেখানে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে। আর এই কবরস্থানে একসাথে শুয়ে আছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ও মুসলিম মুক্তিযোদ্ধা। এটা আমাদের প্রবলভাবে আপ্লুত করে। এটাই বাংলাদেশের শাশ্বত চিত্র। বাঙালির এই চিত্রটি আমাদের ধারণ করে রাখতে হবে। সেখানে একটা মেমোরিয়াল স্থাপন করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। তবে জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে তা হয়নি। পরে ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় ভাড়া বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়।
তিনি বলেন, শুরুতেই বিভিন্ন বধ্যভূমির মাটি আমরা সংগ্রহ করেছি। দেখলাম দেশের মানুষ খুব আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের কাছে আমরা আহবান জানালাম, তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের যে স্মৃতিচিহ্ন আছে তা যেন আমাদের দেন। আর এক্ষেত্রে প্রথমেই এগিয়ে এলেন খুলনার সেই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম খান। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যার ৪ মাস বয়সী শিশুটিকে উঠোনে পায়ে পিষে মেরে ফেলেছিলেন। তার কাছে মেয়ের আর কোন স্মৃতি ছিল না। কিন্তু তারপরও তিনি তা আমাদের দিয়ে দেন। এভাবেই তিল তিল করে গড়ে উঠেছে এই জাদুঘর...
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের এই ট্রাস্টি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এত বড় সংগ্রহ আর কারো কাছে নেই। এমনকি সরকারের কাছেও নেই।
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিরপুরে মুসলিম বাজার ও জল্লাদখানা বধ্যভূমি খননের কাজ সম্পন্ন করে এবং পরে ২০০৮ সালে জল্লাদখানা বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিপীঠ নির্মাণ করে। এছাড়া বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের চত্বরের বধ্যভূমিও এর আওতাধীন ।
আউটরিচ কর্মসূচি
১৯৯৭ সালে নেয়া হয় আউটরিচ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটান এলাকার শিক্ষার্থীদের পরিবহন যোগে জাদুঘর পরিদর্শনে নিয়ে আসা হয়। তাদের ‘বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। তারা গ্যালারি পরিদর্শন করে ও কুইজ পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর
একটি বৃহত্ আকারের বাসের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন দিয়ে সাজিয়ে ২০০১ সালে তৈরি করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর। সারাদেশে জেলা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরের মাধ্যমে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
চলতি বছরেই স্থানান্তরিত হচ্ছে স্থায়ী ভবনে
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আড়াই বিঘা জমির উপর নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী ভবন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই সেখানে জাদুঘর স্থানান্তর করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থাপনের জন্য নতুন জাদুঘর ভবনে দুই ধরনের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। একটি স্থায়ী ও অন্যটি পরিবর্তনশীল। স্থায়ী প্রদর্শনীর জন্য গ্যালারির আয়তন হবে সুপরিসর এবং নিয়মিতভাবে অস্থায়ী প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য পৃথক গ্যালারি থাকবে।
জিয়াউদ্দিন তারিক আলী বলেন, ২ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের এই জাদুঘরে দুটি গবেষণা ইনস্টিটিউট হবে। যাতে ১০০/২০০ বছর পরেও গবেষকরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে পারেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কাছে ১৭ হাজার স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। স্থান স্বল্পতার কারণে মাত্র ১৩শ আইটেম প্রদর্শন করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যে ভালো কাজে পয়সা দেন, এগিয়ে আসেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী ভবন নির্মাণে সহায়তাই তার বড় প্রমাণ। জাদুঘর নির্মাণে মোট ১০২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর প্রায় ৩০ কোটি টাকাই দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
আর এর মধ্য দিয়েই যেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রবেশ পথে লেখা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অঙ্গীকারটি যেন আবার মনে করিয়ে দেয়, সাক্ষী বাংলার রক্তভেজা মাটি/ সাক্ষী আকাশের চন্দ্রতারা/ ভুলি নাই, শহীদদের কোন স্মৃতি/ ভুলব না কিছুই আমরা।’
