‘স্থিতিশীলতা থাকলে শুধু ক্রিকেটে নয় অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ বাঘ হবে’

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৫, ১৯:০২
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, স্থিতিশীলতা থাকলে শুধু ক্রিকেটেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ বাঘে পরিণত হবে। 
তিনি বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। কিন্তু এরপরও স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত আমাদের অর্জনকে কোনভাবেই খাটো করে দেখা যাবে না। 
শনিবার রাজধানীতে ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স কর্পোরেশনের সহায়তায় (আইএফসি) পলিসি রিচার্স ইন্সটিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত টেক্সটাইল খাতে টেকসই পরিবেশ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 
পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের অনেক ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে। কিন্তু সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি হবে সেটাও বিবেচনায় আনতে হবে। আমরা আশাবাদী ইতিবাচক কিছু হবে। অবশ্য এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থা আমাদের জন্য নতুন নয়। এর মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। 
তিনি বলেন, কৃষি এবং শিল্পে আমাদের অর্জন ঈর্ষণীয়। বিদেশিরাও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন দেখে অবাক হন। 
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার সময়ের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। তখন আমাদের হাতে পুঁজি ছিলো না। এখন কেউ কেউ আমরা মিলিয়ন বিলিয়ন টাকারও হিসাব করছি। এটা আমাদের সাফল্য। 
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, নানা খাতে সাফল্য থাকলেও বাংলাদেশের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটো দিকই আছে। তবে আমাদের অর্জনকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। একসময়কার ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট এখন দুই লাখ কোটি টাকা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা বিশ্বের সব দেশের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা কারো একার নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সবার ক্ষতি হবে। তাই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের সমস্যা নানাবিধ। এখানে বিদ্যুতের সমস্যা আছে, গ্যাসের সমস্যা আছে। এর ভেতর দিয়ে তারা উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে, ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করছে। বাকি কিছু থাকলে সেটা উদ্যোক্তারা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ঠিক রাখতে রাজিৈনতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন আছে বলেও তিনি মত দেন। 
অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, তৈরী পোশাক রপ্তানি এবং তুলা আমদানিতে চীন ও বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম এবং দ্বিতীয়। চীনের উৎপাদনশীলতা বেশী হওয়ার কারণ তাদের জনবলের দক্ষতা। বাংলাদেশকেও দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে মনোযোগী হতে হবে। ভবিষ্যতে পানি ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতির বাস্তবায়ন এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, একসময় ক্রেতারা কোয়ালিটির ওপর জোর দিলেও এখন তারা কমপ্লায়েন্স এর ওপর জোর দিচ্ছে। এখন রপ্তানির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে নানা বিধিনিষেধ আসছে। তিনি বলে, এসব বিধিনিষেধ না মেনে রপ্তানি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে উৎপাদন খরছ বেড়ে যাচ্ছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।