চট্টগ্রামে বিএনপির লোকজনও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপির একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জানিয়েছেন তারা নির্বাচনের জন্য কাজ করছেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত আসলে তারা প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়বেন। তবে অনেকে নির্বাচনকালীন সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ভূমিকা কেমন হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বলে জানান।
তারা জানান, নগরীর প্রতিটি এলাকার নেতৃস্থানীয় প্রায় সকলের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এর ফলে অধিকাংশই এলাকা ছাড়া। এ অবস্থায় নির্বাচন চলাকালে নেতা-কর্মীদের হয়রানি অব্যাহত রাখলে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনভাবেই সম্পন্ন হবে না। চট্টগ্রাস সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মহিলা কমিশনার ও মহিলা দলনেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি জানান, তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার দলের সিদ্ধান্তের দিকেও তাকিয়ে আছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকাই মূখ্য হবে। লোকজন ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারলেই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মনজুর আলমও নির্বাচনে আগ্রহী বলে জানা যায়। তিনি ইত্তেফাককে জানান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তার সিদ্ধান্তের ওপর সবকিছু নির্ভর করবে। তাছাড়া দলের সিদ্ধান্তের পর চট্টগ্রামে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে বিএনপি’র একাধিক নেতা-কর্মী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছে বলে জানা যায়। বিগত নির্বাচনে বিএনপি সমর্থক অন্ততঃ ২২ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ১ জন কাউন্সিলর বিস্ফোরক মামলায় আটক হয়ে জেলে রয়েছে। আরো একাধিক নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পলাতক রয়েছেন।
এদিকে আত্মগোপনে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনও কাউকে নিরুত্সাহিত করা হয়নি। তবে সকলেই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র পদের জন্য বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা চালাচ্ছেন বলে জানা যায়। তারা মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন করার পরিবেশ এবং নিজেদের প্রার্থিতার ব্যাপারে মতামত গ্রহণ করছেন বলে একাধিক স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মী জানান। কেন্দ্র থেকেও মেয়র পদে যোগ্য প্রার্থীর ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জানান, মেয়র পদের ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায় থেকে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।
