বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমানা নির্ধারণে যৌথ জরিপ

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৫, ১৮:১৭
বান্দরবান পার্বত্য জেলা নাইক্ষ্যংছড়িতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমানা জরিপ ও সীমান্ত পিলার পুন: নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব-নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুসারে বিজিবি এবং বিজিপির তত্ত্বাবধানে দুই দেশের ক্ষতিগ্রস্ত সীমানা পিলার সংস্কার, পিলার ও সাব পিলার নির্মাণ বিষয়ক এ জরিপ কাজ নাইক্ষ্যংছড়ির লেম্বুছড়ি ও সদর ইউনিয়নের আশারতলী-চাকঢালা সীমান্ত দিয়ে গত ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। কক্সবাজার বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো খালেকুজ্জামান পিএসসি নিশ্চিত করে বলেন, জরিপ কার্যক্রম আগামী ১৯শে মে পর্যন্ত ধারাবাহিকতা থাকবে। 
শনিবার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিওপি’র দায়িত্বাধীন বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতু সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি’র) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক কালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ সীমান্ত সার্ভে সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। 
বৈঠকে মিয়ানমার নম্বর-১ বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কামান্ডিং অফিসার লে.কর্নেল চো তুইঝা ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কক্সবাজার ১৭ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। উক্ত বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন, ৫০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল শফিউল আজম পারভেজ, ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইমরান উল্লাহ সরকার, পিবিজিএমএস এবং কক্সবাজার সেক্টরের স্টাফ অফিসার মেজর মাহবুব সাবের। 
সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে ২৬ অক্টোবর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় জরিপ কাজ চালায় উভয় দেশের সার্ভে দল। জরিপ শেষে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লেম্বুছড়ি ও তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত পিলার ৩৪, ৩৫, ৫১ এবং ৫৩ নম্বর এলাকায় তুমব্রু খালের ভাঙ্গনে মিয়ানমারের দখলে চলে যাওয়া ১৫ একর ভূমি ফেরত দিয়েছিল বাংলাদেশকে। 
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সাথে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৩১ বিজিবির ব্যাটালিয়ন সীমান্ত ৭১ কি:মি ও জোনের অধীনে ৯৪ কি:মি সীমান্ত। এ জোনের অধীনে বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে চাকঢালা, ভালুকখাইয়া, আশারতলী, ফুলতলী, লেমুছড়ি, পাইনছড়ি, দোছড়ি, ছাগলখাইয়া, তিরেরডিব্বা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩১-৪০নং সীমান্ত পিলার পর্যন্ত ঘুমধুম-তুমব্রু, রেজু আমতলী, বাইশফাড়ি, উখিয়ার বালুখালী, পালংখালী পর্যন্ত ১৫ কি:মি: সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে কক্সবাজার ১৭ বিজিবি এবং ৩১ বিজিবি জোনের অধীনে রামু ৫০ বিজিবি নিয়ন্ত্রণ করছে নিকোছড়ি, রেজুপাড়া, মনজয়পাড়া এলাকার ৪০-৪৩ নং সীমান্তের ৮কি:মি সীমান্ত এলাকা। কিন্তু দোছড়ি এলাকার ৫৫-৬৩নং সীমান্ত পিলার এলাকা সম্পূর্ণ অরক্ষিত রয়েছে।
বাংলাদেশের সার্ভেয়ার জেনারেল অব বাংলাদেশের পক্ষে চারজন ও মিয়ানমারের পক্ষে ৮জন সার্ভেয়ার বর্তমানে সীমান্ত জরিপে নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে ৫টি সীমান্ত পিলার, ১১টি এডিসনাল ও ১১টি রেফারেন্স পিলার স্থাপন করবে উভয় দেশ।