ভিন্ন নামে আসছে ফেনসিডিল

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৫, ২০:৫২
ভিন্ন ভিন্ন নামে আসছে ফেনসিডিল। ভয়াবহ ফেনসিডিল আগ্রাসন ঠেকাতে ভারতে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
 
রবিবার  ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত মাদক মহাপরিচালক (ডিজি) বৈঠকের প্রথম দিনে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে ফেনসিডিল বন্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক ( অপারেশন) প্রনব কুমার নিয়োগী।
 
ডিজি পর্যায়ের বৈঠকের আজ রবিবার ছিল প্রথম দিন। সকাল দশটায় ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে শেষ হয় বিকাল পাঁটায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিল  ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ( এনসিবি) ডিজি শ্রী বি বি মিশ্রর নেতৃত্বে ১১ সদসের টিম।
 
অপর দিকে  বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. বজলুর রহমানসহ ১৫ সদস্যের টিম।
 
পরিচালক অপারেশন বলেন, বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেয়া সিন্ধান্ত কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে সে ব্যাপারেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, ফেনসিডিল বন্ধে ভারত বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভারত সরকার কড়া মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কারণে বিগত সময়ে তুলনোয় ফেনসিডেল সরবরাহ অনেকটা কমেছে।
তবে চোরকারবারীরা ভিন্ন ভিন্ন নামে ফেনসিডিল বাংলাদেশে সরবরাহ করছে। এর একটা তালিকা , ফেনসিডিলে সঙ্গে জড়িত, ফেনসিডিলের লেবেল সহ বিভিন্ন বিষয়ের একটি তালিকা বাংলাদেশের তরফ থেকে ভারতীয় টিমের হাতে সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতও অন্যান্য মাদক নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের সহায়তা চেয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটা তালিকাও তারা প্রদান করেছেন। 
 
পরিচালক অপারেশন প্রণব কুমার নিয়োগী বলেন, সোমবার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে ভারতীয় টিমের সঙ্গে আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দুপুরে ভারতীয় সফরকারী টিম সচিবালয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর বিকালে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের সদর দফতর ( তেজগাঁও) পরিতদর্শন করবেন। সফরকারী টিম মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করবেন।
 
২০০৯ সালে ভারত (নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো-এনসিবি)-বাংলাদেশ (ডিপার্টমেন্ট অব নারকোটিকস-ডিএনসি) মাদক মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দিল্লিতে। এ বৈঠকে দু’পক্ষই প্রতি বছর মাদক ডিজি পর্যায় বৈঠক হবার ব্যাপারে একমত হয়।
 
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে মাদক পাচার বিশেষ করে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল প্রবেশ বন্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া  হয়। এর ফলে বাংলাদেশে ফেনসিডিল প্রবেশ অনেকটা কমে আসে। দ্বিতীয় দফায় ২০১১ সালে বৈঠক হয় ঢাকায়।