আন্দোলনকারীদের লাগানো তালা ভেঙে দীর্ঘ চার মাস পর গতকাল রবিবার খোলা হল রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সকালে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ৬টি, একাডেমিক ভবনের ৪টি ও ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রধান ফটকে লাগিয়ে দেয়া তালা ভেঙে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন পর ক্লাস চালু হওয়ার খবরে সকাল থেকেই বিভিন্ন বিভাগের শত শত শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আসতে থাকে। ক্লাস শুরুর আনন্দে ক্যাম্পাসে মিছিলও করে তারা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তালা ভাঙা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরশেদ-উল-আলম রনি ও সহকারী প্রক্টর শাহীনুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সচল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সমন্বিত অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সমন্বিত অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ উপাচার্য ড. একেএম নূর-উন-নবী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিকে পাশ কাটিয়ে সিভিল প্রশাসন, পুলিশ ও বহিরাগতদের দিয়ে ক্যাম্পাস সচল করার যে অপচেষ্টা করছেন তা ন্যক্কারজনক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আমাদের গণঅবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ ও পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা ভেঙে ফেলার জন্য উপাচার্য সহযোগিতা চাইলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ পাঠিয়ে তালা ভেঙে ফেলা হয়।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নুর-উন-নবী অচিরেই ভর্তি কমিটির বৈঠক ডেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে জানিয়ে বলেছেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আর বন্ধ হবে না।
