পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোনা পানি প্রবেশের আশঙ্কা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৫, ১১:৪৬


উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি পোল্ডারে কমপক্ষে ২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো দিয়ে লোনা প্রবেশ করতে পারে। ফলে উপকূলীয় কয়রা উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো হচ্ছে, মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা, পূর্ব মঠবাড়ি, দশাহালিয়া, কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, গুড়িয়াবাড়ি স্লুইস গেট এলাকা, ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালি, হড্ডা খেয়াঘাট এলাকা, তেঁতুলতলার চর ট্রলার ঘাট এলাকা, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে গাতিরঘেরি, কাশিরহাট ও গাববুনিয়া এলাকা এবং দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চরামুখা, মাটিয়াভাঙ্গা, জোড়শিং ও ছোট আংটিহারা এলাকা। এর মধ্যে ১৩-১৪/২ নম্বর পোল্ডারে লোকা ও পূর্ব মঠবাড়ি এলাকায় সাড়ে তিন কিলেমিটার এবং ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট, গুড়িয়াবাড়ি স্লুইস গেটের পূর্ব পাশে, চরামুখা, মাটিয়াভাঙ্গা ও ছোট আংটিহারা এলাকার সাত কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আ. মান্নান জানান, নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করার উপক্রম হয়েছে। মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বেল্টু জানান, লোকা ও পূর্ব মঠবাড়ি এলাকার পবনা ক্লোজারের উত্তর পাশের বাঁধে ব্যাপক ধস নেমেছে। এ জন্য এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আ. মতিন বলেন, চলতি অর্থবছরে কয়রা উপজেলার দুটি পোল্ডারের প্রায় ৪৯ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতে মাটির কাজ করা হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক স্থানে বাঁধে নতুন করে ধস নেমেছে। যে ২১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ধরা হয়েছে সেখানে জরুরিভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ইউএনও মো. শামীম হাসান জানান, কয়রার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পাউবোর বেড়ি বাঁধ। এই বেড়ি বাঁধ সংস্কারের আশু প্রয়োজন। তা না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাও. আ. খ. ম তমিজ উদ্দীন জানান, চারিদিকে নদী পরিবেষ্টিত কয়রা উপজেলার মানুষ সার্বক্ষণিক আতঙ্কে ভোগেন। কখন যেন বাঁধ ভেঙে তাদের জানমালের ক্ষতি হয়। এ জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি টেকসই পদ্ধতির বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট উদাসীন। তারা অসময়ে এসে অপেক্ষাকৃত লাভজনক স্থানে যেনতেনভাবে দায়সারা কাজ করেন।