কেশবপুরে ভাঙ্গন আতংকে দুই শতাধিক পরিবার

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৫, ১২:০৯


কেশবপুরের সীমান্তবর্তী আগরহাটি গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শ্রীহরি নদীর স্রোতের তীব্রতার কারণে তীরবর্তী ভরত ভায়না গ্রামের রাজবংশী জেলেপাড়া, আগরহাটি গ্রামের শেখ ও গোলদার পাড়ার ২ শতাধিক পরিবারে ভাঙ্গন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সমস্যা নিরসনে গত বছর ৬শ মিটার পাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পটির কাজ মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারের গচ্চা যাচ্ছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রশি টানাটানিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে শ্রীহরি নদী প্রবাহিত হয়ে ভবদহ অঞ্চলে গিয়ে মিশেছে। ১০ বছর আগে বিল খুকশিয়ায় টিআরএম (জোয়ার আধার) প্রকল্প চালুর পর পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া এ নদীর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পায়। এ সময় নদী বাক নেয়ায় ভরত ভায়না ও আগরহাটি গ্রাম ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। এতে জোয়ারে আগরহাটি ও ভাটায় ভরত ভায়না গ্রাম নদীতে বিলীন হচ্ছে। ফলে পলিতে ডুমুরিয়া উপজেলার চহেড়া গ্রাম গড়তে থাকে। বর্তমান চহেড়া গ্রামের প্রায় ৫০ ফুট নদী এখন উঁচু জমিতে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসির দাবির প্রেক্ষিতে গ্রাম দুটি রক্ষায় শ্রীহরি নদীর ডান তীরে প্রতিরক্ষামূলক কাজ প্রকল্পের আওতায় পাকা বাঁধ নির্মাণে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১০ মার্চ কাজ শুরু করে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার জন্য কাজটি পান যশোরের ঠিকাদার এমডি গোলাম রেজা ও শাহীন চাকলাদার। এ দুজন ঠিকাদার কাজটি হস্তান্তর করেন সাব ঠিকাদার যশোরের তপন ও কাকনের কাছে।
আগরহাটি গ্রামের মেম্বার লিয়াকত আলী খান বলেন, ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে কাজটি যথা সময়ে শেষ হয়নি। দুটি গ্রামের শত শত মানুষ এ নদীর কারণে আজ নি:স্ব। তিনি দাবি করেন, গ্রাম দুটি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করে লুপ কাটিং (বাক কেটে সোজা করা) করলে একদিকে যেমন গ্রাম দুটি রক্ষা পাবে অন্যদিকে সরকারের ১ কোট ৬০ লাখ টাকা গচ্চা যেত না। যথা স্থানে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ কাজের সাব ঠিকাদার তপন বলেন, কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সময়ে বাধার কারণে সিডিউল অনুযায়ী কাজটি শেষ করতে পারেনি। ডাম্পিং সিসি ব্লকের ৮০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ কেন কাজটি বন্ধ করে দিলেন সেটা জানি না। তবে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য গত বছর ৩০ জুন আবেদন করা হয়েছে।
এ কাজের তদন্তকারী কর্মকর্তা পওর উপ-সহকারী প্রকৌশলী বজলুর রহমান বলেন, কাজটি শুরু থেকে ঠিকাদার ১ লাখ ১০ হাজার সিসি ব্লকের মধ্যে ৬৭ হাজার পিচ তৈরি করেছেন। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী নদীর তলদেশে জিইও ব্যাক ডাম্পিং করে প্লেসিং ব্লক দিতে হবে। তারপর এর ওপর সিসি ব্লক দিতে হবে।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ওই নদীতে বর্তমান বিপুল পরিমাণে পলি আসছে। নদীর তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করলে অতিরিক্ত পলির কারণে নদী ভরাট হয়ে মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজাইন চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও এসির নেতৃত্বে একটি  বিভাগীয় টিম ওই নদী পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু হলে নদীর স্রোত বৃদ্ধি পাবে। তখন কাজ শুরু করা যাবে কি না তা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।