গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী-ফরাদপুর এলাকার পদ্মার চরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সরকারি বনাঞ্চলের ২০ হাজার গাছ দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে গেছে।
গতকাল রবিবার বিকেল চারটার দিকে বনের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বনের ভেতরের খড় ও শুকনো পাতায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গোদাগাড়ী দমকল বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু পদ্মার হাটু পানি ও দুর্গম বালুচর পেরিয়ে তারা পানি ভর্তি গাড়ি নিয়ে আগুনের কাছে যেতে পারেনি।
এদিকে বনের ভেতর কিংবা আশপাশে পানিরও কোনো উত্স নেই। তাই আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়ে দমকল বাহিনী ফিরে যায়। তবে চরের অধিবাসীরা বনের ভেতর ইঁদুরের তোলা মাটি ছিটিয়ে প্রায় পাঁচ ঘন্টা চেষ্টার পর রাত নয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে বনের আকাশমনি, শিশু, খয়ের, ঝাউ, চামকড়ই, ফুল কড়ই, বাবলা ও নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ হাজার গাছ পুড়ে যায়। স্থানীয় বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বনের সরকারি পাহারাদার ওসমান গণি ও জিল্লুর রহমান জানান, আগুন লাগার সময় তারা দু’জন বনের দু’দিকে পাহারা দিচ্ছিলেন। হঠাত্ বনের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে চিত্কার শুরু করেন। তাদের চিত্কারে চরের অধিবাসীরা এগিয়ে আসে। তারা জানান, এর আগেও দুর্বৃত্তরা বনটিতে দুই দফায় আগুন দিয়েছে। বিশাল আয়তনের বনাঞ্চল দেখাশোনায় তাদের দু’জনকে বেগ পেতে হয়।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন জানান, বনটি গড়ে তোলার সময় যাদের দখলে থাকা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, অগ্নিসংযোগের জন্য তাদের সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে। এছাড়া বন বিভাগের একটি নিজস্ব তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করবেন।
প্রসঙ্গত, চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও দারিদ্র বিমোচন প্রকল্পের আওতায় ২০১০-১১ অর্থ বছরে ১ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রেমতলী-ফরাদপুর এলাকার পদ্মার চরের ৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ১ লাখ ৩২ হাজার গাছ লাগিয়ে বনটি গড়ে তোলা হয়। এই বনায়নে উপকারভোগী আছেন এলাকার ৫৪৯ ব্যক্তি।
