জেলা শহরের ব্যাপক আলোচিত ছেলে কর্তৃক মা-বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পঞ্চগড় থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। নিহত দম্পত্তির বড় ছেলে রবিবার রাতে ঘাতক মঞ্জুরুল হাসান শান্তকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। সরকারি কাজে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিকে কর্তব্য পালনে বাধাদান এবং হত্যার উদ্দেশ্যে সাধারণ ও গুরুতর জখমের অভিযোগে শান্তর বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেছে পুলিশ। এই মামলার বাদী হয়েছে পঞ্চগড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন।
পঞ্চগড় থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, দু’টি মামলায় মঞ্জুরুল হাসান শান্তকে আটক দেখিয়ে তাকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার সময় আহত পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী নাসিমা খাতুনের অবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। রবিবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। সিটি স্ক্যানের পর সোমবার চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শান্তর হামলায় আহত পঞ্চগড় থানার এসআই আরিফ ও এএসআই এনামুল সোমবার চিকিৎসা নিয়ে পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরের পর জেলা শহরের রামের ডাঙ্গা (আখেরী রোড) মহল্লায় প্রকাশ্য দিবালোকে মানসিক বিকারগ্রস্ত ছেলে মঞ্জুরুল হাসান শান্ত (৩৭) তার পিতা পঞ্চগড় চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত সেন্টার ইনচার্জ ও মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান (৬৫) এবং মা সুলতানা বেগমকে (৫৫) কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লাশের ময়না তদন্তের পর ওইদিন রাতে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় গোরস্থানে জানাযা শেষে দাফন করা হয়।
