হযরত খানজাহানের খলিফাতাবাদ নগরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৫, ০০:৪০

বাগেরহাটে হযরত খানজাহান (র:) বসতভিটা মধ্যযুগের ঐতিহাসিক নগর খলিফাতাবাদে চলতি বছরের  খনন কাজ গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মধ্যযুগের স্বীকৃত প্রত্নস্থান হযরত খানজাহানের (র:) বসতভিটার খনন স্থান থেকে এবছর সুলতানী যুগের ব্যবহূত বিভিন্ন ধরনের সৌখিন তৈজসপত্র, মৃিশল্প, চুন দিয়ে তৈরি স্টোন ওয়্যার,  পলিক্রম ওয়্যার, গেলইজড ওয়্যার, স্লিপযুক্ত ওয়্যার, সেলাডন, চাইনিজ পোরসেলিন, এগ শেল মৃত্পাত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া খননের সময়ে খলিফাতাবাদ নগরের ইমারতের বিভিন্ন দেয়াল, দেয়ালের দুই পাশে বসতি তৈরির নমুনা, রাস্তা, বিভিন্ন আয়তকার পোড়া মাটির ইট পাওয়া যায়। এসব নির্মাণ কাজের জন্য চুন সুরকি, চুন বালি ও শামুক ঝিনুক ব্যবহার করা হয়েছিল। খননের সময়ে চুন বালি মিশ্রিত করার একটি আঁধার পাওয়া গেছে।

এছাড়া স্থাপত্য কাঠামোর ধ্বংসাবশেষের মধ্যে একটি সেফটি ট্যাংকসহ পাকা শৌচাগার, পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহূত ১৭ মিটার পোড়া মাটির তৈরি পাইপ, পানি নিষ্কাশন নালা ও ইটের তৈরি কাভার্ড নালার সন্ধান পাওয়া যায়। সুলতানী যুগে ব্যবহূত অলংকৃত বিভিন্ন ধরনের রঙিন টালি, ফুলের নকশাকৃত ও লতাপাতা অলংকৃত ইটও পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত এ প্রত্নসম্পদের আলোকে পত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করছেন তারা মধ্য যুগের সুলতানী আমলের হযরত খানজাহানের (র:) ঐতিহাসিক নগর খলিফাতাবাদের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করতে পেরেছেন। প্রায় তিন মাস ধরে চলা এ খনন কাজে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোকাম্মেল হোসেন ভুঁইয়াসহ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। 

সোমবার দুপুরে ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের বাজেয়াপ্ত সুন্দরঘোনা গ্রামে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এ খনন কাজের সমাপ্ত করে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ষাটগম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান গোলাম ফৈরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা এমপি। অন্যানের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ আমিরুজ্জামান, সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান,অধ্যক্ষ মোঃ সইফ উদ্দিন , ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আকতারুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।