কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের স্থানীয় জনসাধারণ এখন ডাকাত আতঙ্কে রয়েছেন। রাত হলেই তাদের চোখে মুখে ফুটে ওঠে আতঙ্কের ছাপ। তাদের নির্ঘুম রাত কাটে ভয় আর পাহারায়। কারণ বর্তমান সময়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মুখোশধারী গ্রিল ও সিধ কাটা ডাকাত চক্র। গত কয়েকদিন ধরে প্রায় প্রতিরাতেই কোথাও না কোথাও ঘটছে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা । এসব ঘটনায় থানায় বিভিন্ন সময় মামলা ও আটক হলেও দিনদিন ডাকাতি ক্রমশ বেড়েই চলছে। আর সবকিছু হারানোর ভয় ও আতঙ্কে ঘুম হারাম হয়ে গেছে এ উপজেলাবাসীর। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ভরসা করতে না পেরে বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে বসিয়েছেন পাহারা। সতর্ক থাকতে ঘোষণা দেয়া হয় মহল্লার মসজিদের মাইকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার দক্ষিণ এলাকায় চলতি বছরের তিন মাসে অর্ধশত ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেকেই স্বর্ণালঙ্কারসহ কোটি টাকার সম্পদ হারিয়েছেন। অনেকেই আবার ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে হয়েছেন আহত এবং পঙ্গু ।
পুলিশ ও ভুক্তভুগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাতে মুরাদনগর উপজেলার পাটুয়াটুলী গ্রামের ৮টি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। অস্ত্রধারী ডাকাত দল ওইসব বাড়ির ঘরের সিধ ও গ্রিল কেটে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৫৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।
একই রাতে উপজেলার নেয়াতমকান্দি গ্রামের ওমান প্রবাসী মো. আবুল কাশেমের বাড়িতে মাকে নিয়ে বেড়াতে আসা মাদ্রাসা ছাত্র মিজানুর রহমানের ওপর হানা দিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। সূত্র আরও জানায়, গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার উপজেলার মেলামচর গাছতলা অনিল দাস পরিমল করের বাড়ির গ্রিল কেটে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
১৮ মার্চ বাখরাবাদ -ইলিয়টগঞ্জ সড়ক এলাকায় মাদবপুরে লাশবাহী গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। এসময় বাধা দিতে চাইলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাকে আশেক আলী মন্ডল নামে এক জনকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
এসব ঘটনায় মামলা ও অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনো মালামাল উদ্ধার কিংবা জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ডাকাতির ঘটনা নিশ্চয় উদ্বেগের বিষয়। যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় মামলা এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে।
