বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির অর্থের পরিমাণ জাতীয় বাজেটের প্রায় আড়াই গুণ। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির সংখ্যা ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৩১৪। এ সব অডিট আপত্তির অর্থের পরিমাণ হচ্ছে—৬ লাখ ১৫ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। মামলাসহ দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এ সব অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার পক্ষে সংসদে প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
সম্পূরক এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘বর্তমান সরকার গত ৫ বছরের শাসনামলে বিপুল সংখ্যক অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করে প্রায় ৩৮ হাজার ৮৬ কোটি টাকা আদায় করেছে। যেহেতু প্রতিবছরই উন্নয়ন বাজেট বাড়ছে, সে কারণে অডিট আপত্তির সংখ্যাও বাড়ছে।
সেলিনা জাহান রিটার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান—বিএনপি-জামায়াত জোটের অপরাধমূলক নাশকতা-সহিংসতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথেই রয়েছে। সব চক্রান্ত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকার টার্গেটের চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে।
এম এ মান্নান জানান—কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সম্প্রতি সাময়িকভাবে সিএসআর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সিএসআর খাতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
ডেসনিটি সম্পর্কে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান—ডেসনিটি নামক প্রতিষ্ঠানটি দেশের মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ডেসটিনির সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। আইনগত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ডেসটিনির সব সম্পদ বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের টাকা পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত সরকারের রয়েছে। অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা ফেরত পাবে।
সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান—২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী ১০ ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ ১০ হাজার ৫২০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে এ সময়ে ব্যাংকিং খাতে মুনাফা অর্জন হয় ২১ হাজার ২৬৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। গত বছর সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, যার মুনাফার পরিমাণ ১ হাজার ৭৪২ দশমিক ৩২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংকের মধ্যে শুধু বেসিক ব্যাংক লোকসানে রয়েছে।
সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান—গত পাঁচ বছরে (২০০৮-০৯ থেকে ২০১৩-১৪) অর্থবছরে উন্নয়নকাজে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকার ঋণচুক্তি হয়েছে। এ সময় দাতা সংস্থা থেকে পাওয়া ঋণের পরিমাণ ৭৬ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা।
তিনি জানান—গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ চুক্তি হয়েছে আইডিএর (বিশ্বব্যাংক) সঙ্গে। এ সময় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয় ৮ হাজার ৫৩৫ দশমিক ০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। তবে তাদের কাছ থেকে ঋণবাবদ পাওয়া যায় ৩ হাজার ১২০ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পরই রয়েছে জাপান। এ দেশটির সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয় ৪ হাজার ৫৫৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির কাছ থেকে ঋণবাবদ পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৬০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবির) সঙ্গে চুক্তি হয় ৫ হাজার ৬৫৫ দশমিক ০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৭৫৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান— সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী (২০১৫ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত) ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত রিজার্ভের পরিমাণ ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রচলিত ধারায় ব্যাংকিং খাতের অতিরিক্ত রিজার্ভের পরিমাণ ২৩৬ কোটি টাকা এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত রিজার্ভের পরিমাণ ৩৩৭ কোটি টাকা। তবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে যে পরিমাণ অতিরিক্ত রিজার্ভ রয়েছে, তা ব্যাংকের সংখ্যা ও ব্যাংকিং খাতের মোট দায়ের বিবেচনায় খুবই নগণ্য। এ হিসেবে প্রকৃত অলস টাকার পরিমাণ অতিরিক্ত রিজার্ভের তুলানায় খুবই কম।
