ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা মন্ত্রীসহ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণও জানানো যাবে না। কোন প্রার্থী নিয়ম লংঘন করে অনুষ্ঠানে যোগদান করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের এসব তথ্য জানিয়ে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলম ও দক্ষিণ সিটির মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, আইন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা যেতে পারবেন না। তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা প্রার্থীদের কোনো অনুষ্ঠানে ডাকবেন না। প্রার্থীরাও ‘গুরুত্বপূর্ণদের’ আমন্ত্রণ করবেন না। তাদের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। এর ব্যত্যয় ঘটলে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। তখন বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার বিধি ৬ এর উপ-বিধি ১৪ তে বলা আছে, ‘জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চীপ হুইপ, হুইপ এবং সরকারের কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদা সম্পন্ন সরকারি সুবিধাভোগী কোন ব্যক্তি, নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়াও কোন সরকারি কর্মকর্তা কোন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ বা নির্বাচনী কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। তবে উক্ত ব্যক্তিগণ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল ভোট প্রদানের জন্য এলাকায় যেতে পারবেন। আইন লংঘন করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ইতোমধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ২৬ জন প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে।
পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ
নিতে হবে মেয়র মঞ্জুর
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলমকে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে মেয়র পদ ছেড়ে দিতে হবে। এ বিষয়ে গত ২৩ মার্চ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় থেকে বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনী আইন (ধারা-৯/২/ঙ) অনুযায়ী, মেয়র পদে আছেন এমন কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। তবে তিনি মেয়র পদ ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। ২০১০ সালের নির্বাচনে তত্কালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী পদত্যাগ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় এই আইন প্রযোজ্য নয়। সংসদ সদস্যর মধ্যে কেউ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে চাইলে তাদেরও পদত্যাগ করতে হবে।
ছয় দিনে ১৯০৫ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ
গত বুধবার ঘোষণা করা হয় তিন সিটি নির্বাচনের তফসিল। গত ছয় দিনেই মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এই তিন সিটি থেকে ১৯০৫ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে ১৮ জন, কাউন্সিলর পদে ৪৩৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮৫ জন, দক্ষিণে মেয়র পদে ১৫ জন, কাউন্সিলর ৭২৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪৩ জন এবং চট্টগ্রাম সিটিতে মেয়র পদে ১১ জন, কাউন্সিলর পদে ৪১৫ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৯ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।
মনোনয়ন কিনলেন সেলিম খোকন, মান্না, কবরী
দক্ষিণ সিটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নওয়াবুল আলম ইত্তেফাককে জানান, গতকাল ৬ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাঈদ খোকন ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, আইয়ুব হোসেন, আবদুল খালেক, বাবুল সরদার, ও দিলীপ ভদ্র মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, গতকাল মেয়র পদে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক সংসদ সদস্য সারা বেগম কবরী, এখলাছ উদ্দিন মোল্লা, নাঈম হাসান ও সাইফুল সিরাজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বেলা ১১টার দিকে মান্নার পক্ষে আতিকুর রহমান ও কবরীর পক্ষে শহিদুল হক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিরাপত্তা
ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত র্যাব, পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনার ও র্যাব মহাপরিচালককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের সময় এ ব্যবস্থা নিতে বলেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। এ সময় সম্ভাব্য প্রার্থীরা যাতে ৫ জনের বেশি লোক নিয়ে না আসতে পারেন সে ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ মার্চ, যাচাই-বাছাই ১ ও ২ এপ্রিল এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ১০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ হবে ২৮ এপ্রিল।
