নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদীর অরুণ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে পাশের বাড়ির লোকজনের সন্ত্রাসী হামলায় তিন শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় জেলা শহর মাইজদীতে জেলা শিক্ষক সমিতি মানববন্ধন ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
টাউন হল চত্বরে মানববন্ধন চলাকালে জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে এক সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা সমিতির সভাপতি এবিএম আবদুল আলিম, বেগমগঞ্জ উপজেলা সমিতির সভাপতি মো. সফি উল্যা, শিক্ষক নেতা হারুন অর রশিদ, তোফাজ্জল হোসেন, মিজানুর রহমান ও রিয়াদ উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে অরুণ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় শহরে ঘণ্টাব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ঘটনার পর বিকালে শিক্ষার্থীরা মাইজদী-চৌমুহনী সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।
এদিকে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি -তদন্ত) নিজাম উদ্দিন জানান, শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার রাতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের পাশের বাজিগর বাড়ির একটি ছেলে বিদ্যালয় মাঠে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। এ সময় শিক্ষক পিন্টু আচার্য্য তাকে ঘুড়ি উড়াতে বারণ করেন। ছেলেটি তার কথা না শোনায় অন্য শিক্ষকরা ছেলেটিকে শিক্ষক মিলনায়তনে ডেকে নিয়ে কান ধরে উঠবস করায়। পরে সে বাড়িতে গিয়ে জানালে তার ভাই সাগরের নেতৃত্বে বাড়ীর শতাধিক নারী পুরুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে ঢুকে পিন্টু আচার্য্য, আবুল কাশেম ও গিয়াস উদ্দিনকে বেদম মারধর করে এবং বিদ্যালয়ের দরজা জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় শিক্ষকদের আত্মচিৎকারে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
ঘটনার রাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভূপাল চন্দ্র দেবনাথ বাদী হয়ে পাঁচজনকে এজাহারভূক্ত ও আরো দেড়শতাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
