প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রাবির নিজস্ব বাস, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৫, ১৮:১৪
 
বিএনপি-জামায়াতের চলমান অবরোধ-হরতালে ক্লাস পরীক্ষা চললেও ৮৪ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিজস্ব পরিবহন (বাস) চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ১৫ হাজার মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা বাসভাড়া বাবদ অর্থ প্রদান করলেও পরিবহণ দফতরের ৪২ লক্ষেও বেশি টাকার তেল খরচ সাশ্রয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে।
 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাভাবিক নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা চললেও শুধু পরিবহন (বাস) বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা অন্তত ১৫ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বিকল্প খরচে নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন। আবার ক্যাম্পাসের বাসিন্দারাও প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে বিকল্প খরচে শহরে যাচ্ছেন। উপরন্তু তারা বাসভাড়া বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়কে অর্থও দিচ্ছেন।
 
পরিবহন দফতর সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল করেছে। এরপর শীতকালীন ছুটি শেষে চলমান অবরোধ-হরতালের অজুহাতে ৮৪ দিন আর বাস চলেনি। সূত্র মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫টি বাসের জন্য প্রতিদিন অন্তত আটশ’ লিটার ডিজেল খরচ হতো। যার মূল্য ৫০ হাজার টাকারও বেশি। এ হিসেবে গত ৮৪ দিনে পরিবহন খাতে অন্তত ৪২ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
 
শিক্ষার্থীরা জানান, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় জানুয়ারিতে কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়। এরপর অন্যান্য বর্ষের ক্লাস পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের সিদ্ধান্তে সকল বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক হয়। তবে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস চলাচল না করায় সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
 
এ ব্যাপারে পরিবহণ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. সাইয়েদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবরোধ-হরতালে ক্লাস পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস চালানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। নাশকতার আশঙ্কায় বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’
 
প্রসঙ্গত, রাবির ১৭টি আবাসিক হলে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি ২০ হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করেন। এছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অধিকাংশই ৮/১০ কিলোমিটার দূরের শহরে থাকেন।