এগারো বছর পার করল র‌্যাব

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৫, ২১:১৭
 
নানা চড়াই উত্রাই পেরিয়ে  বৃহস্পতিবার র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে র‌্যাব জনসাধারণের সামনে আত্মপ্রকাশ করে। অপারেশন দায়িত্ব পায় ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল।
 
রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের সম্মুখে আসে। আর ঐ বছরের ৩০ জুন রাজধানীর উত্তরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান ক্রসফায়ারে নিহতের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ অপারেশন কার্যক্রম শুরু করে।
 
এই এগারো বছরে র‌্যাবের সাফল্য নিয়ে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে। নানা অপরাধে র‌্যাব সদস্যরা জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় বিভাগীয়ভাবে শাস্তির ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। তবে তা শুধরিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত টিম র‌্যাব সদস্যদের মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
 
র‌্যাবের পদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, একটি বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্থান দেখিয়েছে র্যাব।
 
কার্যক্রম শুরুর সময় ব্যাটালিয়ন ছিল সদর দফতরসহ ৭টি। লোকবল ৫ হাজার ৫২১ জন। প্রয়োজনের তাগিদে বেড়েছে র্যাবের জনবল ও ব্যাটালিয়নের সংখ্যা। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও সরকারের বেসামরিক প্রশাসনের বাছাইকৃত চৌকস কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যদের নিয়ে এখন ১৪ টি ব্যাটালিয়নে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার র্যাব সদস্য কর্মরত রয়েছেন।
র‌্যাবের হিসাব অনুযায়ী গত এগারো বছরে সারাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭শ’ ৮২ জনকে তারা গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১শ’২৬ জন জামায়াতুল মুজাহিদীন (জেএমবি) ও হরকাতুল জিহাদসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। অভিযানে গত এক দশকে ৮ হাজার ৭শ’৬ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার, ১১ হাজার ৭শ’১৪ টি অস্ত্র, ১লাখ ২৩ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ, সাড়ে ৭ হাজার ককটেল, বোমা, গ্রেনেড এবং ৫,২৮০ কেজি  বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে র্যাব।
র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০৪ সালে ৫৪ জন, ২০০৫ সালে ১০৬ জন, ২০০৬ সালে ১০৯ জন, ২০০৭ সালে ৮১ জন, ২০০৮ সালে ৬৩ জন, ২০০৯ সালে ৩৮ জন, ২০১০ সালে ৪২ জন, ২০১১ সালে ২৩ জন, ২০১২ সালে ৪৫ জন, ২০১৩ সালে ৩৫ জন, ২০১৪ সালে ২২ জন ক্রসফায়ার, লাইন অব ফায়ার এবং বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
 
 নিহতদের বেশিরভাগই হলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের সদস্য, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও সুন্দরবনের জলদস্যু।
র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মাহমুদ খান একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জানান, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও আস্থার মূল্যায়ন করে র‌্যাব সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।