সিটি নির্বাচন তামাশা ছাড়া কিছু নয় :বিএনপি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৫, ০০:২৬

গতকাল বিএনপির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারের নীল নকশা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করে ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আরেকটি প্রতারণামূলক নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন তথা সরকার। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দিয়ে যে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে তা গোটা দেশবাসীর ইচ্ছার সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির মুখপাত্র দলের যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে তামাশার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারা মানুষের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মাধ্যমে জোর-জবরদস্তি মূলকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারে তারা ক্ষমতা ধরে রাখা ছাড়া কখনোই জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না এটাই স্বাভাবিক। নাগরিকের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণকারী এবং উত্পীড়ক ও লুটেরা আওয়ামী স্বৈরশাসনের কবল থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে ২০ দলীয় জোট যখন আন্দোলন-সংগ্রামে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত ঠিক তখনই মহাচক্রান্তের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন-সংগ্রামের গতিধারাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর বিভক্ত দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ডিঙ্গিয়ে যেদেশে কোন সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করে দিতে পারে সেদেশের নির্বাচন কমিশন কতটুকু স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ক্ষমতাবান হতে পারে তা বুঝতে মহাজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে বিএনপিসহ অন্যান্য দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিতের কোন লক্ষণ এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সকল দল, নগরবাসী তথা দেশবাসীর কাছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার মতো ইচ্ছা নির্বাচন কমিশনের থাকলে তড়িঘড়ি করে পুলিশ মহাপরিদর্শকের পরামর্শে এপ্রিল মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করা হতো না। নির্বাচন কমিশন ঠুটো জগন্নাথ বলেই আজ কোন প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা করছে না। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পূর্বে কোন নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী বা সুশীল সমাজের সাথে পরামর্শ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সারাদেশে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, নাগরিক ও সাংবাদিক সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ অগনিত বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীকে কারাগারের অন্ধপ্রকোষ্ঠে বন্দী রাখা হয়েছে। তাদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে অথচ আইনি বিধি-বিধান পরোয়ায় না এনে তাদেরকে জামিনও দেয়া হচ্ছে না। জামিন পাওয়া একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার; কিন্তু সেই অধিকারটুকুও আজ ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তবে ২০ দলীয় জোট আশা করে- সরকার অবিলম্বে বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সকল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করবে এবং কারান্তরীণ নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেবে।
‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি আগামীতে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে ২০ দলীয় জোট দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ’ -একথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার দেশকে সংঘাত ও হানাহানির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যথাযথ উদ্যোগ নিবে। আর তাতে নেতিবাচক মনোভাব দেখালে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। ২০ দলীয় জোট আশা করে- সরকারের শুভচেতনা ও শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
বিবৃতিতে বিএনপির অন্যতম যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে অবিলম্বে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়, অপহরণের পনের দিন অতিবাহিত হয়েছে অথচ এখনো পর্যন্ত তার সন্ধান দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ মঙ্গলবার বলেছেন, খুব শিগগিরই সালাহউদ্দিন আহমেদ অপহরণ রহস্য উন্মোচিত হবে। ২০ দলীয় জোট মনে করে- হানিফ সাহেবের বক্তব্যে বোঝা যায় যে, সালাহ উদ্দিন আহমেদ সরকারের গোচরেই আছেন। দেশবাসী সুস্থ অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে জনসমক্ষে হাজির করার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যে মাসে দেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল সেই মাসে বিএনপিসহ বিরোধী সকল দলের গুমকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিয়ে হতাশাগ্রস্ত ও উত্কণ্ঠিত পরিবারবর্গকে সরকার আশার আলো দেখাবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সারাদেশে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে যে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে সেজন্য জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়া ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।