মুক্তিযুদ্ধের অকুতভয় সৈনিক পাকুরামের পরিবার আর্থিকভাবে আজ নিঃস্ব। সরকারি কোনো সহযোগিতা জোটেনি। পাকুরামের মৃত্যুর পর নিঢালী এক মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে পথে নেমেছেন। স্বামী সম্পর্কে নিঢালী বলেন, ‘খুব ভালো ছিল পাকুরাম!
‘ভিক্ষা করিতে মোক খুবে নইজ্জা নাগে। কিন্তু না করিলে কি খাইম। না খাইয়া কথা কহিবারও শক্তি পাও না মুই। বয়স হইচে কামও করিবা পারু না; সেইতানে ভিক্ষা করে বেড়াচু। সদর উপজেলার ভেলাজান চৌদ্দকালী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা পাকুরামের স্ত্রী নিঢালী বেওয়া এভাবেই তার ছিন্নভিন্ন জীবনের করুণ কাব্য তুলে ধরেন। নিঢালী আরও বলেন, ‘ভেলেদিন ধরে চেয়ারম্যানডার কাছত একখান কার্ড চাহেচু, সবাইকে দেচে; কিন্তু মোক দেই না। কার্ড নিবার তানে নাকি টাকা নাগিবে। পয়ে চৌকিখান বিক্রি কয়ে দেড়শ’ টাকা দিছু একজনক। এলাও মোক কার্ড দেই না।’
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা অনন্ত মাস্টার বলেন, ‘পাকুরাম ভাই অত্যন্ত সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তারা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু যুদ্ধ করলেও দেশ স্বাধীনের পর সরকারি গেজেটে তার নাম অজ্ঞাত কারণে প্রকাশ পায়নি। তার পরিবারের জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। এই পরিবার যেন সরকারিভাবে সহায়তা পায় এ দাবি জানান তিনি।
