জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসকে না বলুন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৫, ২০:০২
 
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে না বলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ৪৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসন এ শিশু-কিশোর সমাবেশের আয়োজন করে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার কাজে প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধের নামে যারা পুড়িয়ে শিশু-অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ নিরীহ সাধারণ মানুষ হত্যা করছে তাদের কোন ক্ষমা নেই। জাতি তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।
 
 
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনগণ সমাজে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করে। বর্তমান সরকার জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা উন্নত দেশ চাই, শান্তিপূর্ণ সমাজ চাই।
 
তিনি বলেন, সন্ত্রাস-সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা আটকানো যাবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হবে। যেখানে আজকের শিশুরা খুঁজে পাবে একটি সুন্দর ভবিষ্যত্ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড  চালাচ্ছে, আগুন দিয়ে শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারছে, তাদেরকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। যারা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, জাতির কখনোই তাদেরকে ক্ষমতা করবে না। জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, আর কোন শিশুর এভাবে মৃত্যু হোক আমরা তা কখনোই প্রত্যাশা করি না। আর কেউ শিশুদেরকে স্কুলে যেতে বাধা দিতে পারবে না।
 
প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শিশুদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা আমাদেরকে নিজস্ব পরিচয়ে বাচার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা আমাদের নিজস্ব পৃথক ভূখন্ড পেয়েছি। আমরা আমাদের পৃথক জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও সংবিধান পেয়েছি। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য স্বাধীনতাকে অর্থবহ করা এবং একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে জাতির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা।
 
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার শিশুদের মেধা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের প্রতিশ্রুতি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কম্পিউটার ও প্রযুক্তি শিক্ষা গ্রহণে ছাত্রদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম স্থাপন করা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক চর্চা ও তাদের সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তুলতে শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। প্রতিটি উপজেলায় ছোট স্টেডিয়াম করা হচ্ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনে শিশুদের মনোযোগী হবার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি, মর্যাদা বৃদ্ধি ও দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনতে শিশুদের দেশের মূল্যবান নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ও খেলাধুলায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে শিশুদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করতে হবে এবং দেশের একজন মূল্যবান নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে ও দেশের ভবিষ্যত্ নেতৃত্ব গ্রহণে যোগ্যতা অর্জনে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
 
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং ঢাকার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া তাকে স্বাগত জানান।
শুরুতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী।  এসময় জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। অনুষ্ঠান মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ানোর পর প্যারেড কমান্ডার সালাম জানালে প্রধানমন্ত্রী পায়রা ছেড়ে ও বেলুন উড়িয়ে শিশু-কিশোর সমাবেশের উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন। প্যারেড পরিদর্শনের পর স্টেডিয়ামের বিশাল পর্দায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিএনসিসি, ঢাকা জেলা নৌ স্কাউট, ভারতেশ্বরী হোমস, শহীদ আব্দুর জব্বার আনসার ও ভিডিপি স্কুল ও কলেজ, ভিকারুন্নিসা স্কুল ও কলেজ, বাংলাদেশ ফিমেল অ্যাকাডেমি, তেজগাঁও শিশু পরিবারসহ ৪৬টি প্রতিষ্ঠান প্যারেডে অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন।
এরপর ভারতেশ্বরী হোমস ও পিলখানার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আকর্ষণীয় ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।