স্বাধীনতা সংগ্রাম ভূগর্ভস্থ জাদুঘর উন্মুক্ত হল

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৫, ০১:০১

আগে নাম ছিল রমনা রেসকোর্স। এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এই উদ্যানে দাঁড়িয়ে উপস্থিত লাখো জনতার সামনে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। আর এখানেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ঐতিহাসিক এসব মুহূর্তের বিশালাকৃতির দুইটি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম জাদুঘরে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পে নির্মিত গ্লাস টাওয়ারের নিচেই রয়েছে এই মিউজিয়াম। ৪৫তম স্বাধীনতা দিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বস্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া   হয় এই জাদুঘর। খুলে দেওয়ার পর থেকে নগরবাসী ভিড় করে সেখানে।  ৬৭ একর বিস্তৃত   সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এই স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘরের। এই প্রকল্পের চারপাশে রয়েছে তিনটি জলাশয়, বাঙালি জাতিসত্তার অমরতার প্রতীক ‘শিখা চিরন্তন’ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামকে ভিত্তি করে নির্মিত একটি দেয়ালচিত্র। জাদুঘরের উপরিভাগে রয়েছে আধুনিক মানের মিলনায়তন। এই স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের আরেক সৃষ্টি গ্লাস টাওয়ার। জানা গেছে, ইস্পাতের কাঠামোর ওপর নির্মিত হয়েছে এই টাওয়ার। ১৬ ফুট দৈর্ঘ্য আর প্রস্থের পাশাপাশি ১৫০ ফুট উচ্চতা এ টাওয়ারটির। এর উপরিভাগে রয়েছে স্বচ্ছ কাচ। এতে সূর্যের আলো প্রতিসরণ ও প্রতিফলন হয়। রাতে আলোকচ্ছটা তৈরির জন্য রয়েছে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা। রাতেও কৃত্রিম আলোর প্রজেকশনে টাওয়ার ও নিচের জলধারায় সৃষ্টি হয় এক স্বপ্নিল মায়াময় পরিবেশের। এই টাওয়ারের নিচেই রয়েছে ভূগর্ভস্থ এই স্বাধীনতা জাদুঘর। এখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবি, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ছবি স্থান পেয়েছে। এছাড়া যে টেবিলের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার লে. জেনারেল একে নিয়াজী আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন তার অনুকৃতি (রেপ্লিকা) রয়েছে এই জাদুঘরে। রয়েছে বিভিন্ন বিদেশি পত্রিকায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের কপি এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষে বহির্বিশ্বে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও পুস্তিকার ছবি।

স্বাধীনতা দিবসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাদুঘরে এসেছেন ব্যবসায়ী সালেহীন আকন্দ। তিনি বলেন, ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের। এজন্যই ঐতিহাসিক এই উদ্যানে সকলকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। যাতে তারা সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদকে স্মরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেন।