নিউইয়র্কের স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনির স্টেট ক্যাপিটল হিলে সিনেটের অধিবেশন চলাকালে ‘বাংলাদেশ ডে’ নামে মহান স্বাধীনতা দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের জন্য রেজুলেশন উত্থাপন করেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর রুবিন ডিয়াজ। এসময় উপস্থিত সিনেটর এবং আমন্ত্রিত শতাধিক আমেরিকান-বাংলাদেশির মুহূর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে এটি পাস হয়।
পরে বাংলাদেশ ডে পালনের মূল উদ্যেক্তা সিনেটর রুবিন ডিয়াজসহ নিউইয়র্কের নির্বাচিত সিনেটররা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় তারা বলেন, ৭০ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ঝাপিয়ে পড়ে এবং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে তারা তাদের চুড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। এসময় সিনেটররা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেও উল্লেখ করেন।
এদিন প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সিনেটের অধিবেশন শুরু হয়। তেলওয়াত করেন মাওলানা মোঃ শহীদুল্লাহ। ইংরেজিতে তর্জমা করে তা অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের শোনানো হয়।
অধিবেশনের শুরুতে বাংলাদেশ ও দেশটির জনগণের প্রতি বিশেষ সম্মান দেখাতে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা নাসরিন কে. আহমেদ, মাহবুবুর রহমান, মাহবুবুর রহমান জুয়েল, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, নুরুল আবেদীন, আতাউর রহমান, রিয়াজ কামরান ও ইমরান শাহ রনকে সিনেটের মূল অধিবেশন কক্ষে আসনে বসতে দেয়া হয়।
এর আগে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশ ডে পালন করা হয়। এসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় এসেম্বলি হলে অধিবেশন শুরু হলে বাংলাদেশ ডে পালনের ঘোষণা দেন। এসময় অধিবেশন কক্ষে জনপ্রতিনিধিদের আসনে চার বাংলাদেশি শিশুকে বসিয়ে সেপুলিভেদা বলেন, এরাই একদিন আমেরিকান জনগণকে নেতৃত্ব দেবে। পরে আমন্ত্রিত শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশিকে অ্যাসেম্বলির কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফিং করা হয় এবং পুরো ক্যাপিটল হিল ভবন ঘুরিয়ে দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস-এর সভাপতি মাহবুব আলম প্রথম চার বছর আগে সিনেটর রুবিন ডিয়াজ ও অ্যাসেম্বিলম্যান লুইস সেপুলভেদার মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তাব করেন।
