অষ্টমীর স্নানোৎসবে আত্মহত্যার চেষ্টার পর প্রেমিক যুগলকে বিয়ে দিয়েছেন উপস্থিত পূণ্যার্থীরা। শুক্রবার নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া অংশে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরের উৎসবে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের বাসুদেব পুর গ্রামের যতিন্দ্র চন্দ্র সেনের মেয়ে কুড়িগ্রাম মজিদা কলেজের ছাত্রী অনুপমা সেনের (২০) সাথে চার বছর আগে একই গ্রামের দূর্গা চরণ বর্মণের ছেলে রংপুর কারমাইকেল কলেজের পরিসংসখ্যান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র প্রদীপ চন্দ্র বর্মণের (২৪) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে অনুপমার পরিবার তার কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে গৃহবন্দী করে রাখে। অনুপমাকে দেখতে না পেয়ে এক সময় প্রদীপ মানসিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলে।
পুত্রকে সুস্থ্য করতে বাবা সহায় সম্পদ বিক্রি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের মাদ্রাজে নিয়ে যায়। সেখান সুস্থ্য হয়ে ফিরে পুনরায় পড়ালেখা শুরু করলেও ভুলতে পারেনি অনুপমাকে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার নুনখাওয়া অংশে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে অনুষ্ঠিত অষ্টমী স্নানে এসে কাকতালীয়ভাবে দুইজনের দেখা হয়। আবেগাপ্লুত হয়ে উপস্থিত হাজারও লোকচক্ষু উপেক্ষা করে তারা দু’জন দু’জনকে জড়িয়ে ধরে। তারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে এক পর্যায়ে ব্রহ্মপুত্র নদে লাফিয়ে পড়তে গেলে উপস্থিত পূণ্যার্থীরা উদ্ধার করে। পরে পুরো বিষয়টি জানতে পেরে পুরোহিতের মাধ্যমে মন্ত্রপাঠ ও মালা বদল করে দুই পরিবারের উপস্থিতে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়।
প্রদীপের বাবা দুর্গাচরণ বর্মণ বলেন, তাদের সম্পর্ক আমি অনেক আগেই মেনে নিয়েছি।
অনুপমার মামা জুলন সেন স্বীকার করে বলেন, তাদের চার বছরের সম্পর্ক। অনেক চেষ্টা করেও বিচ্ছেদ ঘটানো যায়নি। এখন দিনক্ষণ দেখে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েকে ছেলের বাড়িতে পাঠানো হবে।
