আশুগঞ্জ নৌবন্দরে ভারতের চালবাহী জাহাজ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৫, ১৯:০৪
বাংলাদেশ-ভারতের নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় অনুমতিপ্রাপ্ত ৩৫ হাজার মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৩য় দফায় প্রায় ১ হাজার টন চাল নিয়ে একটি দেশীয় জাহাজ শনিবার দুপুরে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পৌঁছেছে। সাময়িক ট্রানজিট সুবিধার আওতায় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রবিবার থেকে দেশীয় ট্রাকের মাধ্যমে এসব চাল সড়ক পথে পরিবহন শুরু করার কথা রয়েছে। 
জানা গেছে, এ চাল পরিবহনে কোন অতিরিক্ত শুল্ক-মাসুল নেয়া হবেনা। এদিকে, চাল পরিবহন সহজ ও নিরাপদ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন চাল পরিবহনের জন্য ভারত বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করে এবং সুবিধাজনক স্থান হিসেবে আশুগঞ্জ নৌবন্দর হয়ে ও আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়কপথ ব্যবহার করতে চায়। বাংলাদেশ দু'দেশের মধ্যে বিদ্যমান নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় মানবিক কারণে এ চাল পরিবহনের অনুমতি দেয়। চুক্তির প্রায় ৯৩৭ মেট্রিক টন চাল নিয়ে জেড শিপিং লাইন্সের জাহাজ এমভি নিউ টেক-৬ শনিবার দুপুরে আশুগঞ্জ নৌ বন্দরে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিবার সকাল থেকে এ চাল দেশীয় ট্রাকে আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ক পথে ভারতের ত্রিপুরার খাদ্য গুদামে পৌঁছানো হবে। 
স্থানীয় প্রশাসন এ চাল পরিবহন ও বন্দরে অবস্থানকালীন সময়ে নিরাপত্তা প্রদানে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। 
বিআইডব্লিউটি সূত্র জানায়, চুক্তির ৩৫ হাজার মেট্রিক টনের মধ্যে গত বছরের আগস্ট মাসে ৫ হাজার এবং অক্টোবর মাসে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়েছিল। এ কিস্তিতে চুক্তির অবশিষ্ট ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল পর্যায়ক্রমে আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় পরিবহনের কথা রয়েছে। এ চাল পরিবহনে কোন শুল্ক-মাসুল নেয়া না হলেও প্রতি মেট্রিক টন চালে ৩০ টাকা করে ল্যান্ডিং চার্জ এবং নৌবন্দরে জাহাজ অবস্থানের জন্য দৈনিক ১৬০ টাকা করে বার্থিং চার্জ নেয়া হবে। 
উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে ত্রিপুরার পাল টানা বিদুৎ কেন্দ্রের যাবতীয় মালামাল বন্দর দিয়ে নেয়া হয়েছিল। 
আশুগঞ্জ নৌবন্দরের পরিবহন পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, ভারতীয় প্রায় ৯৩৭ মেট্রিক টন চাল নিয়ে একটি জাহাজ শনিবার দুপুরে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পৌঁছেছে। কাস্টমসহ পরিবহন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আলাপ করে রবিবার থেকে ট্রাকে সড়ক পথে এ চাল পরিবহন শুরু হবে। 
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু জাফর জানান, আশুগঞ্জ বন্দরে পৌঁছেছে। প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ট্রাকগুলিও  প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে-ই বাংলাদেশের সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হবে। 
এ ব্যাপারে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কার্যালয়ের নবীনগর সার্কেলের সহকারী রাজস্ব অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, এ চাল আগের ১০ হাজার টনের মতো নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় মাসুল ছাড়াই পরিবহন করা হবে।