নারীরা নানা প্রতিকূলতা ঠেলে আজ অনেক ক্ষেত্রেই সামনের সারিতে এসে অবস্থান নিচ্ছে। আর শিল্পচর্চায় নিমগ্ন হতে তাদের ঢের বাধা অতিক্রম করতে হলেও জীবন-যাপনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করেও তারা মনের শিল্পবোধকে প্রকাশ করেন। শিল্পী হওয়ার বাসনাই শুধু নয় নানান রঙের অভিজ্ঞতাকে নিজের উপলব্ধি থেকে মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে তুলে ধরেন ক্যানভাসে, রূপ পায় অপূর্ব চিত্রকর্মের, এভাবেই প্রবীণ শিল্পী হাশেম খান নারী শিল্পীর চিত্রকর্মের প্রদর্শনীতে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, অনেক কাজের মাঝেও যে তারা শিল্পকে ধরে রাখতে পারছেন তাই অনেক বেশি। আর নারী শিল্পী বলার বিষয়ে তার রয়েছে ঘোর আপত্তি। ‘শিল্পী’ বলে তিনি উল্লেখ করে চিত্রকলার জগতে নারীর এই ভ্রমণকে স্বাগত জানান। এমন ৪১ জন প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের নিয়ে ধানমন্ডির সাত মসজিদস্থ গ্যালারি টোয়েন্টি ওয়ান আয়োজন করেছে ১৬ দিনব্যাপী এক চিত্রপ্রদর্শনী।
শনিবার ‘যাত্রা ’শীর্ষক এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, উইমেন ইন্টারপ্রেনারস্ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নাসরিন রব রুবা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনটা ক্লাব অব ঢাকার প্রেসিডেন্ট মালিহা চৌধুরী, গ্যালারির নির্বাহী পরিচালক শিল্পী শামীম সুব্রানা। নারী শিল্পীদের সাথে দেশের স্বনামধন্য শিল্পী অধ্যাপক হাশেম খান, অধ্যাপক রফিকুন নবীর তিনটি চিত্রকর্ম স্থান পায় প্রদর্শনীতে। ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, শামীমা এম করিম ও ফারজানা ইসলামের তিনটি ভাস্কর্যও জায়গা করে নেয় ‘যাত্রা’য়।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, নারী তার উপলব্ধি দিয়ে যেভাবে চিত্রকর্মে ভাব প্রকাশ করতে পারে অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের পক্ষে তা সম্ভব নয়। সন্তান ধারণের আনন্দ আর কষ্টকে নারীর ছবিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীরা যে শিল্পক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই তার প্রমাণ এমন প্রতিভাময় ও গুণী ৪১ জন শিল্পীর এক ছাদের নিচে এই প্রদর্শনী।
প্রদর্শনীতে অধ্যাপক ফরিদা জামান, কনক চাঁপা চাকমা, বিপাশা হায়াত, আফরোজা জামিল, আতিয়া ইসলাম এ্যানি, তৈয়বা লিপি, দিলরুবা লতিফ, নাসিমা খানম কুইনি, ফারজানা চৌধুরী প্রমুখ শিল্পীর চিত্রকর্ম শোভা পায়।
প্রদর্শনী চলবে আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।