লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয়করে ঘাটতি ৮১৩ কোটি টাকা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৫, ১২:২৫

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আঁচ লেগেছে আয়কর আদায়ে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে আয়কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি হয়েছে ৮১৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ২৬ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। দেশব্যাপী বিরোধী দলগুলোর টানা অবরোধ আর হরতালে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি হারায়। এর ফলে অনেক খাত থেকেই কাািঙ্ক্ষত হারে আয়কর আদায় হয়নি। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি এনবিআর রাজস্ব কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি পর্যালোচনাপত্র তৈরি করে। ওই পর্যালোচনাপত্রে আয়কর আদায়ের এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

চলতি অর্থবছরে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত আট মাসে আদায় হয়েছে মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪৪ শতাংশ। অর্থাত্ বাকি চার মাসে আদায় করতে হবে লক্ষ্যমাত্রার বাকি ৫৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছর এনবিআরের রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। আয়কর বাদে অন্য দুটি খাত ভ্যাট ও শুল্ক থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৫৫ হাজার ৫৮০ কোটি ও ৩৬ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি।  অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা শ্লথ। ফলে স্বভাবতই এর প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে আয়কর আদায়ে। এসব কারণে বাকি চার মাসে ৫৬ শতাংশ বা ৩২ হাজার ৬৫ কোটি টাকার আয়কর আদায় দুঃসাধ্য হবে। রাজস্বের বাকি দুটি উত্স মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক আদায়ের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরির আশংকা তাদের। এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের ন্যায় কমিয়ে আনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। ভোক্তার চাহিদাও কমেছে। চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ২৪ শতাংশের বেশি। এটি অর্জনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ পরিস্থিতিতে গতবারের ন্যায় লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার প্রয়োজন হতে পারে।