সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ও অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বানে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্মিলিত নাগরিক সমাজের জাতীয় কনভেনশন।
শনিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় সংগীত এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সমবেদনা সংগীতের মধ্য দিয়ে এ কনভেনশন শুরু হয়। সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত কনভেনশনে সমবেদনামূলক গান পরিবেশন করেন কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার শিল্পীরা।
কনভেনশনের অবস্থানপত্রে নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-সহিংসতা-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার, জনগণ, রাজনীতিবিদ, শ্রমজীবী, পেশাজীবীদের প্রতি জাতীয় সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের অর্থের উত্স বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে নাগরিকের জানমাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মিলিত নাগরিক সমাজের জাতীয় কনভেনশনে দেয়া বক্তৃতায় অন্য বক্তারা অবিলম্বে হরতাল, অবরোধকারী ও পেট্রোল বোমাবাজদের রাজনীতি বন্ধের দাবি জানান। তারা বলেন, রাজনীতির আবরণে কোনো সংগঠন জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকলে বা জঙ্গিবাদের মদদ দিলে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, সহিংসতায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের সহায়তা এবং পুনর্বাসনের সন্ত্রাস-সহিংসতার মদদদাতাদের চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। এছাড়া এতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ও জনকল্যাণের স্বার্থে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
দেশের চলমান সংকটের সমস্যা চিহ্নিত করে আরো বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন ছাড়া এ পর্যন্ত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চারটি নির্বাচন হয়েছে। আর চারটি সরকারই পূর্ণমেয়াদে ক্ষমতায় ছিল। অথচ পরাজিত দল সংসদে নিয়মিত অংশ না নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের ধ্বংসাত্মক-হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
সুতরাং, নির্বাচন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই সংকটের একমাত্র সমাধান নয় বলেও দাবি করা হয় কনভেনশনে। কনভেনশনে স্বাগত বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সভাপতি এ কে এম এ হামিদ।
কনভেনশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টানা ৮২ দিন হরতাল-অবরোধের নামে চলমান সহিংসতায় আজ দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা ধ্বংসের পথে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সচেতন নাগরিক সমাজ নীরব ভূমিকা পালন করতে পারে না। তাই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে এ জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে।
কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আবু উসমান চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) বীরবিক্রম হেলাল মোর্শেদ খান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অবঃ) আবদুর রশীদ, কর্মজীবী নারীর সভাপতি ড. প্রতিমাপাল মজুমদার, অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী প্রমুখ।
কনভেনশনে কাজী খলীকুজ্জমানকে আহবায়ক ও ম হামিদকে সদস্য সচিব করে মোট ৪২ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
