বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের ওয়ালিদং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সৃষ্ট খরস্রোতা রেজুখাল শুকিয়ে যাওয়ায় উখিয়ার ছোট-বড় ১২ খাল এখন পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়ায় টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না। ফলে ৫০ শতাংশ বাসা বাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাবার পানির সংকট। সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়ার কারণে বোরো চাষাবাদ পড়েছে হুমকির মুখে।
সরেজমিনে সীমান্তের রেজু আমতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খালে অজস্র ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের পাথরের ছড়াছড়ি। খালের উজানে অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ দিয়ে চাষাবাদ, নির্বিচারে পাথর উত্তোলন ও খাল জবর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার ফলে এ খালটি শুকিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। খালের পাড়ে বসবাসরত একাধিক লোকজন জানান, খাল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এখানকার অধিবাসীদের বর্তমানে তীব্র পানি সংকটে পড়তে হয়েছে। রেজুখাল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এ উপজেলার অন্যান্য খালগুলোতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। যে কারণে সর্বত্র পানি সংকটে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন জানান, এ উপজেলায় ৩৩ হাজার ৫শ’ পরিবারের মধ্যে প্রায় ২৭ হাজার টিউবওয়েল রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশংকা জনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার ফলে প্রায় ৫০ শতাংশ টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে আবাসিক এলাকায় খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শংকর কুমার মজুমদার জানান, ৬ হাজার ২শ’ ৮৫ হেক্টর বোরো চাষাবাদে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ডিজেল ও বিদ্যুত্ চালিত দুই হাজার ২৭টি অগভীর সেচযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পানি না পাওয়ার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ সেচযন্ত্র অচল হয়ে পড়ায় কৃষকদের পানি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এদিকে বিদ্যুত্ দিয়ে চালিত কিছু কিছু সেচ পাম্পে পানি পাওয়া গেলেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে কৃষকেরা চাহিদামত জমিতে পানি দিতে পারছে না।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নূর হোসেন জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। যা দিয়ে ভাগাভাগি করে বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে গিয়ে লোডশেডিং হচ্ছে।
