দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটি সরকারের আজ্ঞাবহ কোনো প্রতিষ্ঠান নয় বলে দাবি করেছেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
রবিবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ‘দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের জন্যই দুদক আরও বেশি কাজ করতে পারছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, যদি সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার না থাকত, তাহলে আমরা সরকারের উপদেষ্টা-মন্ত্রী-এমপিকে দুদকের বারান্দায় আনতে পারতাম না। বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের ফলেই তাদের সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়েছে। অপর দিকে কোনো কর্মকান্ডে আমরা সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করি না। আমরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।
তিনি আরো বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সব সময় দুদকের পেছনে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। তাদের ওই সমালোচনা আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। আমরা এখন শুধু জনগণের ধারণা পাল্টাতে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর তথাকথিত দুর্নীতির বিষয়ে আমি বলব, যারা এ দুর্নীতির কথা আমাদের বলেছিলেন, তারা ভুল বলেছেন। যারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন তারা আমাদের বলেছেন, টেন্ডারে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। এ ছাড়া কানাডা থেকে আমরা ১৮ ভলিউম তথ্য নিয়ে এসেছি। ওই দেশে যারা সাক্ষী দিয়েছিলেন তাদের সাক্ষ্য আমরা নিয়ে এসেছি। কোনো কিছুতেই দুর্নীতির কোনো ছোঁয়া নেই।
দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবাদের মানোন্নয়নের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা নিতে হবে। অনুসন্ধানী ও সৃজনশীল প্রতিবেদনে আমাদের আরও বেশি আগ্রহী হতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন কতটুকু হয়েছে তা জনগণই বলতে পারবে। তবে আমরা বেশকিছু কাজ করে যাচ্ছি যাতে দুদকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়ে।
দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুদক মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড-২০১৫ এর বিচারক দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর এবং বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুলসহ দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘দুদকের সংবাদ তৈরীর ক্ষেত্রে অন্যান্য সংবাদের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। কারণ দুদকের একটি রিপোর্ট একজনের সম্মানহানি করতে যথেষ্ট। একই সঙ্গে দুদকের রিপোর্ট তৈরীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।’
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা হলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে প্রথম হয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার পারভেজ রেজা, দ্বিতীয় এবিসি রেডিওর স্টাফ রিপোর্টার শাহনাজ শারমীন এবং তৃতীয় হয়েছেন এবিসি রেডিওর সহকারী বার্তা সম্পাদক সুমীর কুমার দে। অপর দিকে প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রথম হয়েছেন্ত জনকণ্ঠের সিটি এডিটর কাওসার রহমান, দ্বিতীয় নিউএজের স্টাফ রিপোর্টার মো. মাহমুদুল হাসান এবং তৃতীয় হয়েছেন বণিক বার্তার সানাউল্লাহ সাকি তনু। উল্লেখ্য ২০১৩ সাল হতে দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা হয়।
এদিকে ‘সবাই মিলে শপথ করি, দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৫ এর চতুর্থ দিনে রবিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় হতে কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান ও কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ এর নেতৃত্বে দুর্নীতি বিরোধী বর্নাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি কমিশনের প্রধান কার্যালয় হতে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়- বিজয়নগর-পল্টন হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন করা হয়।
মানবন্ধনে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান বলেন, জনসাধারণকে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যেই ২৬ মার্চ থেকে ০১ এপ্রিল দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে।
তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহে মিডিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন আমাদের সকল কর্মকান্ড মিডিয়ায় প্রচার, টক শোর আয়োজন কমিশনকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি মিডিয়ার সকল স্তরের প্রতিনিধিদের কমিশনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন দুর্নীতিবাজদের অন্তরের অন্ত:স্থল হতে ঘৃণা করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের সমাজে একঘরে করে তোলার আহবান জানান।
র্যালিতে সুসজ্জিত ট্রাকে একজন প্রতীকী দুর্নীতিবাজকে প্রতীকী কারাগারে রেখে প্রদক্ষিণকালে সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানাতে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সচিব মো: মাকসুদুল হাসান খান, মহাপরিচালক ড. মো: শামসুল আরেফিন, ব্রি: জে: (অব:) এইচ এম সালাহ্উদ্দিন, আবু মো: মোস্তফা কামাল, মো: জিয়াউদ্দিন, মো: সহিদুজ্জামান প্রমুখ।
