প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেতে যাচ্ছে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বরিশাল বিমানবন্দর। ৯ বছর পর আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা-বরিশাল রুটে ফের চালু হচ্ছে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট। এখন থেকে প্রতি রবি ও বুধবার এ রুটে যাত্রী পরিবহন করবে বিমান।
জানা গেছে, ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের অভ্যন্তরীণ ৫টি রুটে ফ্লাইট সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন। পরদিন ঢাকা-বরিশাল রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে বাংলাদেশ বিমান।
মহানগরীর রহ-মতপুর এলাকায় ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ১শ ফুট প্রশস্ত ও ৬ হাজার ফুট দীর্ঘ বরিশাল বিমানবন্দর। ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান চলাচলের মধ্য দিয়ে এ বিমানবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০০ সালের দিকে আরো কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দরের এলাকা বর্ধিত ও রানওয়ের উন্নয়ন করা হয়। ২০০৬ সালের শেষের দিকে লোকসানের অজুহাতে পতাকাবাহী বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। পরের বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিমানের অফিসটি পর্যন্ত গুটিয়ে নেয়া হয়।
এদিকে বিভিন্ন সময় ব্যক্তি মালিকানাধীন কয়েকটি কোম্পানি এ রুটে যাত্রী পরিবহনে সার্ভিস চালু করলেও সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সার্ভিস চালুর কিছুদিনের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নেয় তারা।
বরিশাল বিমান-বন্দরের ব্যবস্থাপক হানিফ গাজী জানান, বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ গুটিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশ বিমান আগামী ৬ এপ্রিল থেকে এ রুটে তাদের সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা।
এদিকে, যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে বিমান বন্দরের অভ্যন্তরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলে সর্বনিম্ন স্পেশাল ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। অপর ৫টি রুটের সাথে সমন্বয় করে এ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
