রাবির বাস সার্ভিস তিন মাস বন্ধ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৫, ০১:১৭

রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রায় স্বাভাবিক হলেও তিন মাস ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিজস্ব পরিবহন (বাস) বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যেসব আবাসিক শিক্ষার্থী শহরে টিউশনি করান বা কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে নিজের খরচ মেটান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বন্ধ থাকায় তাদের অর্জিত আয়ের অর্ধেক যাতায়াতেই খরচ হচ্ছে। আবার যেসব শিক্ষার্থী দূরের মেসে থাকেন, ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসতে তাদের অনেক অর্থ খরচ হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালুর দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।  

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বাহারুল ইসলাম শহরের লক্ষ্মীপুরের একটি কোচিং সেন্টারে সপ্তাহের ৬ দিন ক্লাস নেন। কোচিং সেন্টার থেকে তিনি মাসে আড়াই হাজার টাকা পান। বাহারুল জানান, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বিকালের ট্রিপে লক্ষ্মীপুরে গিয়ে রাত ৮টার লাইব্রেরি ট্রিপে ক্যাম্পাসে ফিরতেন। তার মত অনেক শিক্ষার্থী তিনমাস ধরে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ টাকা, মাসে প্রায় সাড়ে ১২শ’ টাকা খরচ হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নায়িম পারভেজ বলেন, রাজশাহীতে টিউশনি ফি এমনিতেই কম; মাসে দেড় বা দুই হাজার টাকা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বন্ধ থাকায় তাদের কষ্টের টাকার অর্ধেক যাতায়াতেই ব্যয় হচ্ছে।
জানা যায়, রাবির ১৭টি আবাসিক হলে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। অনেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরের শহরতলির নিজের বাড়ি থেকেও ক্লাস করেন। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করেন। বাস বন্ধ থাকায় তাদের প্রত্যেকের প্রতিদিন গড়ে ৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।
রাবি পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল করেছে। গত তিন মাসে একদিনও আর বাস চলেনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস রয়েছে ৩৫টি। প্রত্যেক কর্মদিবসে বাসের জ্বালানি বাবদ আটশ’ লিটার তেল খরচ হয়। প্রতিদিনের জ্বালানিতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। এ হিসাবে তিন মাসে শিক্ষার্থীদের পকেট শূন্য হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অন্তত ৪৫ লাখ টাকা বেঁচেছে।
রাবি পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক সাইয়েদুজ্জামান বলেন, অবরোধ-হরতালের মধ্যে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন,  শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাস চালু করা যাচ্ছে না।