পর্নোগ্রাফিযুক্ত ওয়েবসাইট বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৯

পর্নোগ্রাফিযুক্ত দেশের সকল ওয়েবসাইট ছয় মাসের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্যসচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, সকল মোবাইল অপারেটরকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, এতে শুধু শিশুরাই নয়, এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সমাজের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটাকে জাতির স্বার্থে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

চাঁদপুরের বাসিন্দা মোঃ রাসেল হোসেন ও ময়মনসিংহের খায়রুল হাসান সরকারের পক্ষে বেসরকারি সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন গত ১১ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে পর্নোগ্রাফিযুক্ত ওয়েবসাইটের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে তা বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের’ এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার ৭৭ ভাগ স্কুলগামী শিক্ষার্থী পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এটা আশঙ্কাজনক। এছাড়া এই পর্নোগ্রাফিযুক্ত ওয়েবসাইট নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনও তুলে ধরা হয়।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির পল্লব। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে। রুলে পর্নোগ্রাফিযুক্ত সব ওয়েবসাইট স্থায়ীভাবে কেন বন্ধের এবং ফেসবুক এবং সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার (আইডি) সংযুক্তির কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে ইন্টারনেটের স্বল্পমেয়াদী লোভনীয় অফার বন্ধে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।