তিস্তার বালু চরে কুমড়া চাষে স্বাবলম্বি প্রান্তিক কৃষক

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৫, ১৭:৩০
 
 
 
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বালুর চরে কুমড়া চাষ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওই এলাকার কৃষকরা। কুমড়ার বাম্পার ফলনে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে জমি ও বসতবাড়ী হারানো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অসহায় মানুষ খুঁজে পেয়েছে জীবন জীবিকার পথ। সেই সাথে এক সময়ের অবহেলিত বালুময় চরাঞ্চল এখন সবুজ ফসলের প্রানবন্ত ছোঁয়ায় রুক্ষ পরিবেশের বিরূপ চিত্রকেই যেন বদলে দিয়েছে।
 
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলো এখন শুধু ধূ-ধূ বালু চর। নদীর বুক জুড়ে জেগে উঠেছে শত শত একর জমি।
 
৬ ইউনিয়নের খোর্দ্দার চর, নিজামখাঁর চর, বেকরির চর, নবাবগঞ্জের চর, চর চরিতা বাড়ি, হরিপুরের চর, লখিয়ারপাড়া, হাজারির চর, উজান বুড়াইল, ভাটি বুড়াইল, চর বিরহিম, পাড়া সাধুয়া, ফকিরের চর, কালাই সোতার চর ও কেরানির চর এলাকার জেগে ওঠা চরাঞ্চলে নিজ উদ্যোগে জমির মালিকরা ২ থেকে ৩ ফুট গর্ত করে চাষ করেছে কুমড়া। তাই গোটা চরাঞ্চল জুড়েই এখন সবুজ ফসলের সমারোহ। জানা গেছে, এ বছর ৬টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ২ হাজার ৬১ জন চাষি প্রায় ২শ’ একর জমিতে কুমড়ার চাষ করা হয়েছে।
 
কাপাশিয়া ইউনিয়নের বাদামের চরের কৃষক আবুল মিয়া ও চন্ডিপুর ইউনিয়নের লালচামার চরের হায়দার আলী এবং  দছিজল হোসেন জানান, ৮৪ জন কৃষক তাদের এই এলাকায় ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন। উত্পাদিত মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করে হাজার হাজার টাকা মুনাফা পাচ্ছেন।
 
লালচামার চরের চরের কৃষক ফরিজল হোসেন, আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য চাষিরা বলেন, মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে তারা বেশ কয়েক বছর থেকে বেশ মুনাফা পাচ্ছেন। কিন্তু চলতি বছর হরতাল-অবরোধের কারণে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে না পারায় ক্ষেতের কুমড়া ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে এবছর কুমড়া চাষীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম খরচে এবং স্বল্প পরিশ্রমে কুমড়া চাষ করা যায়। ফলে যে হারে চরাঞ্চলে কুমড়া চাষীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে গোটা চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।