প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক দুর্যোগে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য একটি দক্ষ ও কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে সোমবার এক বাণীতে এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সকল উন্নয়ন কর্মসূচিতে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রম সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ সহনশীল জাতি গঠনে সদাপ্রস্তুত। এ লক্ষ্যে তাঁর সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০১০-২০১৫ এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১১ প্রণয়ন করেছে। সরকার দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী ২০১০ জারী করেছে।
“দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামীকাল ৩১ মার্চ ২০১৫ দেশব্যাপী ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ উদ্যাপন করা হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশে প্রতি বছর এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা বেশি ঘটে।
‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ পালনের মাধ্যমে আসন্ন দুর্যোগ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের সামর্থ্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশব্যাপী দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করে ১৯৭২ সালে গঠন করেছিলেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি করেছিলেন মাটির কিল্লা যা ‘মুজিব কিল্লা’ নামে পরিচিত। মুজিব কিল্লা আজও ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রাণিসম্পদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ বিপদসংকেত পদ্ধতি, দুর্যোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়াদান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন ইত্যাদি কার্যক্রমে আমাদের সরকার তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
আসন্ন দুর্যোগকালে মানুষকে সর্তক ও সচেতন করতে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের ডিজিটাল সেন্টারগুলো তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রেক্ষিতে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য জানি, দুর্যোগের ক্ষতি কমিয়ে আনি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
শেখ হাসিনা ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০১৫’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। খবর বাসস।
