দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

দুর্নীতিই দারিদ্র্যমুক্তির প্রধান অন্তরায়

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৫, ২০:৩০
 
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, দুর্নীতিই দারিদ্র্যমুক্তির প্রধান অন্তরায়। সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা না গেলে দেশকে দারিদ্রতা দূর করা সম্ভব হবে না।
 
সোমবার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা অডিটরিয়ামে শ্রেষ্ঠ জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
 
কমিশনের চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ্ আবু সায়ীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার মো: সাহাবুদ্দিন ও ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের একটি বড় উত্কণ্ঠার বিষয়। দুর্নীতি হচ্ছে চুরি বা লুণ্ঠনের মতো অপরাধ। এজাতীয় অপরাধ সংঘটিত হলে মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়। সমাজ নির্জীব এবং নিশ্চল হয়ে পড়ে।
 
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অফিসে, প্রতিটি রাস্তায় দুর্নীতি হচ্ছে-অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্বলরাই এই লুণ্ঠনের শিকার হচ্ছেন।  দুদককে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। অতীতে আমাদের মূল্যবোধ আরও উন্নত ছিল। এদেশের মানুষের মেধা ও কর্মস্পৃহা প্রবল।  যদি দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করে দুদককে আরও শক্তিশালী করা যায় তাহলে আমি বিশ্বাস করি এই বাংলা একদিন সুখের বাগান হবে।
 
সভপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান বলেন, দুর্নীতি একটি লজ্জার বিষয়। মানুষ যদি দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে তবেই দুর্নীতিবাজরা ঘৃণিত হবে।  চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের তথ্য নিকটস্থ দুদক কার্যালয়ে প্রদান করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
কমিশনার সাহাবুদ্দিন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরাই অগ্রদূত এবং কমিশনের সহযাত্রী। আমরা সম্মিলিতভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে পুত্রও দুর্নীতিবাজ পিতাকে ঘৃণা করবে।
 
অনুষ্ঠানে  বক্তব্য রাখেন, কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন, কমিশনের সচিব মো: মাকসুদুল হাসান খান, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) ড. শামসুল আরেফিন, রংপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক, মুক্তাগাছা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার দাস প্রমুখ। এখানে উল্লেখ্য যে দেশের ৪২২ টি উপজেলা, ৬২ টি জেলা, ১টি মহানগর ও ৮টি আঞ্চলিক মহানগরে সর্বমোট ৪৯৩ টি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
খাগড়াছড়ি, ঝিনাইদহ, রংপুর পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং বিভিন্ন জেলার ২১টি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে আজ পুরস্কৃত করা হয়।