বেতন যেখানে টাকার বদলে চিনি

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৫, ০০:৫৬

পঞ্চগড় চিনিকল কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছেন তাদের উত্পাদিত চিনি নিয়ে। দাম কমিয়েও চিনি বিক্রি করতে পারছেন না। বর্তমানে চিনিকলের গুদামে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ৯ হাজার ৩শ’ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত পড়ে আছে। যার বাজার মূল্য ৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার উপরে। চিনি বিক্রয় না হওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন চিনিকল কর্তৃপক্ষ। এখন মাসিক বেতন হিসেবে টাকার বদলে তাদের দেয়া হচ্ছে চিনি। এজন্য প্রতি টন চিনির দাম ধরা হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা।  আর এই চিনি নিয়ে তারা প্রতিটন ৫শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা কমে বাজারে বিক্রি করছেন। পঞ্চগড় চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, আখ মাড়াই মৌসুম শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে। এ বছর এই চিনিকলে ৩ হাজার ৫১৮ মেট্রিক টন চিনি উত্পাদিত হয়েছে। যার পুরোটাই মজুদ রয়েছে। সেইসাথে আগের বছরের উত্পাদিত আরো ৫ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। নতুন করে গুদাম নির্মাণ করেও চিনি রাখার স্থান সংকুলান হচ্ছে না।

জানা গেছে, দেশে মিষ্টি তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো চিনির মূল ক্রেতা। কিন্তু দেশে উত্পাদিত চিনির রঙ কিছুটা লাল হওয়ায় তারা এসব চিনি কেনেন না। তারা এর চেয়েও কম দামে বিদেশ থেকে আনা  পরিশোধিত সাদা চিনি ব্যবহার করে থাকেন। এ কারণে দেশি চিনির চাহিদা অনেক কমে গেছে। অথচ দেশে উত্পাদিত চিনি পরিশোধন করলে সকলেই এই চিনি ক্রয় করবে। অনেকের মতে, মাত্র ৩ মাসের জন্য বিদেশ থেকে  চিনি আমদানি বন্ধ করে দিলেই দেশে উত্পাদিত সকল চিনি বিক্রি হয়ে যাবে। এতে চিনিকলগুলো দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এ ব্যাপারে পঞ্চগড় চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন  বাবুল বলেন, সরকারের অদূরদর্শিতার জন্য দেশের চিনিকলগুলো বন্ধ হতে বসেছে। তিনি বলেন, দেশের চাহিদার খুব সামান্য অংশ চিনি উত্পাদন করে চিনিকলগুলো। তারপরও দেশে উত্পাদিত চিনি বিক্রয় হচ্ছে না। সরকার মাত্র ৩ মাসের জন্য বিদেশ থেকে চিনি আমদানি বন্ধ করে দিলে কোন চিনিকলে চিনি অবিক্রিত থাকবে না। এছাড়া কৃষকদের আখ চাষে আগ্রহী করে তুলতে পারলে বিভিন্ন জাতের আখ সারাবছর উত্পাদন করা সম্ভব। সেইসাথে ব্যক্তিমালিকানাধীন চিনি পরিশোধন কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়ে চিনিকলগুলোতে নতুন পরিশোধন প্লান্ট বসিয়ে সারাবছর কলগুলো সচল রাখা সম্ভব। এতে করে আর বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হবে না। শ্রমিকরাও সারাবছর কাজের সুযোগ পাবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের শ্রমিক-কর্মচারীরা চিনিকল থেকে বেতন হিসেবে টাকার বদলে চিনি নিচ্ছেন। আর এই চিনি বাজারে কম দামে বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পঞ্চগড় চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আব্দুর রশিদ জানান, আমরা চিনিকলে উত্পাদিত চিনি বিক্রি সবার জন্য উম্মুক্ত করে দিয়েছি। তারপরও চিনি বিক্রি করতে পারছি না। লোকজন বাজার থেকে কেমিক্যাল মেশানো সাদা চিনি ক্রয় করছে। অথচ আমাদের দেশে উত্পাদিত চিনি সাদা চিনির চেয়েও অনেক বেশি মিষ্টি। এতে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না বলে স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল।