নগর সংস্কৃতি

সুরতালের ছন্দে স্বাধীনতা গীতি নৃত্যালেখ্য

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৫, ০০:৪৪

সুর তালের ছন্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে মঞ্চস্থ হলো গীতিনৃৃত্যালেখ্য ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বহ্নিশিখার আয়োজনে গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে কলকাতার মঞ্জির সেন্টার ফর ড্যান্স এন্ড কালচার বিশেষ এই গীতিনৃত্যালেখ্যটি পরিবেশন করে। এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মঞ্জির সেন্টার ফর ড্যান্স এন্ড কালচার এর গীতিনৃত্যালেখ্যটির পরিবেশনের আগে নৃত্য পরিবেশন করে বহ্নিশিখার শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানটির উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী ও নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বহ্নিশিখার সাধারণ সম্পাদক রুপু খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আজকের এই আয়োজনটি একেবারেই ভিন্নরকমের। কলকাতার একটি নৃত্যের দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর একটি গীতিনৃত্যালেখ্য পরিবেশন করেছে।
সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আরো দৃঢ় হয়েছে। ভারতের শিল্পীরা এই গীতিনৃত্যালেখ্যটি রচনা করেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।’
‘সাম্প্রদায়িকতা রুখতে  চাই সংস্কৃতি’
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা রুখতে হলে রাজনীতির চাইতেও শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতির শক্তিই পারে উগ্র মৌলবাদী চিন্তা থেকে প্রগতিশীলতার পথে মানুষের মনকে পরিচালিত করতে। গতকাল শিল্পকলা একাডেমীতে সাংস্কৃতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশব্যাপী সংস্কৃতির চর্চা, অগ্রগতি তথা ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সংস্কৃতির চর্চা যিনি করবেন তিনি রক্ষণশীল মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠবেন না। তারা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসাবে বিকশিত হবেন। সে কারণেই বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক আবহে শিশু-কিশোরদের গড়ে তুলতে ব্যাপক কার্যক্রম  হাতে নিতে যাচ্ছে। শৈশব থেকেই সংস্কৃতি চর্চা শুরু করা উচিত, সেটা শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই। যারা সমাজ গড়বে, তাদের সংস্কৃতিবোধসম্পন্ন হতে হবে।
দেশের জনপ্রিয় এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এসময় সরকারের সাংস্কৃতিক নানামুখী কার্যক্রম সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের মাঝে সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করতে বদ্ধপরিকর। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
গত ৬/৭ বছরে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। একসময় অনেক সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও আমরা সংস্কৃতি চর্চা করেছি। এখন প্রতিটি জেলায় শিল্পকলা একাডেমী আছে, সুযোগ-সুবিধা আছে। সব জেলায় পাবলিক লাইব্রেরি আছে, কিন্তু পাঠক নেই। এখন সবচেয়ে অভাব সংস্কৃতি চর্চার মানুষদের। বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এসবের মধ্যে সংগীত শিল্পী শচীন দেব বর্মণের বাড়িতে কালচারাল কমপ্লেক্স, চট্টগ্রামের মুসলিম হলে কালচারাল কমপ্লেক্স, রাজধানীর হাতিরঝিলে কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মসিউর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মাহবুবা মশকুর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।