মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছে আদালত। বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষ আদালতে চার সপ্তাহের সময়ের আবেদন পেশ করে।
গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদনের শুনানির দিন ধার্যের জন্য আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। কামারুজ্জামানের পক্ষে ওইদিনই রিভিউ আবেদনটি দাখিল করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দায়ের করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা।
রিভিউ দায়েরে পর কামারুজ্জমানের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকরে বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে ৪৪টি যুক্তি আনা হয়েছে। মূল ৪৫ পৃষ্ঠার আবেদনে মোট ৭০৪ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড কপি পেয়েছেন তার আইনজীবী। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫৭৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। গত বছরের ৩ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ কামারুজ্জামানকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রেখে রায় দেয়। বেঞ্চের অপর তিনজন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বেঞ্চের বিচারপতিগন স্বাক্ষর করেন। ৫৭৭ পৃষ্ঠার এ পুর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আসামিপক্ষের রিভিউ আবেদনের সূযোগ থাকায় সে অনুযায়ী তারা আবেদন দাখিল করে। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রিভিউ দায়ের করায় রায় কার্যকরের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে।
রায় প্রকাশের পর কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। লাল কাপড়ে মোড়ানো এ পরোয়ানার সঙ্গে কামারুজ্জামানের আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপিও প্রেরণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
