ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। প্রার্থী সমর্থন এবং প্রচারণা নিয়ে দলে চলছে নানা প্রস্তুতি। মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থী শিগগির চূড়ান্ত হবে। আগামীকাল পর্যন্ত বাছাই প্রক্রিয়া চলবে নির্বাচন কমিশনে। এই বাছাইয়ে যারা টিকে থাকেন তাদের থেকেই দলকে সমর্থন দিতে হবে। দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, মেয়র পদে সমর্থন দেয়াটা যত সহজ হবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সমর্থনে ততটাই কঠিন হবে। কারণ প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে তিনের অধিক বিএনপির সাবেক কমিশনার, নেতা-কর্মী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলের সাবেক ৭৫ জন কমিশনারের মধ্যে যারা দলে এখনো সক্রিয় আছেন তারা প্রায় সকলেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই অবস্থায় বিএনপি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কমিটি করেছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে কয়েকটি উপ-কমিটি করা হয়েছে। তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, প্রচারণাসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে। দলের গুলশানের কার্যালয়ে থাকা একজন নেতা জানান, বাছাইয়ের পর প্রথমে মেয়র পরে কাউন্সিলর চূড়ান্ত করবে বিএনপি। প্রতিটি ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়া হবে। তাদের পক্ষেই কাজ করবেন নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। যে ওয়ার্ডগুলোতে সাবেক কমিশনাররা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে রাজপথের আন্দোলনে যাদের অবদান বেশি তাদের গুরুত্ব দেবে দল।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে জানান, নির্বাচনের পরিবেশ হয়নি। ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ করার দাবি নিয়ে আজ নির্বাচন কমিশনে যাবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার অব. আ স ম হান্নান শাহ ৪ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন।
দলের সিনিয়র একজন নেতা জানান, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগ পর্যন্ত আত্মগোপন অবস্থান থেকে বের হওয়ার ঝুঁকি নেবেন না বিএনপি-সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। জামিনের জন্য সময়মত তারা আইনের আশ্রয় নেবে। তারপর বের হবেন।
এদিকে গতকাল ২০ দলের পক্ষে এক বিবৃতিতে বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, তারা প্রত্যাশা করেন সরকার আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সচেষ্ট হবে এবং নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। তার ব্যত্যয় ঘটলে মানুষ তার অধিকার আদায়ে পথ খুঁজে নিতে বাধ্য হবে।
