প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আইন সংশোধন করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়া জরুরি। বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসস।
তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া এবং তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করা জরুরি। এক্ষেত্রে আইনও সংশোধন করা উচিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর নির্দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। এখানে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু যখন হিসাব করা হয় তখন দলের নামেই হিসাব করা হয়, কোন দল কতটাতে হারলো, কতটাতে জিতল, কোন দল কতটা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পেলো, এভাবেই হিসাব করা হয়। আবার এখানে একটা জবাবদিহিতার বিষয়ও রয়েছে। যদি দলীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে তাহলে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কি কি কাজ করছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু তাদের যেহেতু দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয় না, সেহেতু তারা খারাপ কোন কাজ করলেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকে না। অথচ বদনামটা দলের নামেই চলে আসে। তারা যে কর্মকান্ড করেন তা দলের নামেই হয়। সে হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো জাতীয় নির্বাচনের মতো দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়ে দলীয়ভাবেই হওয়া উচিত। তাহলে আরও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সংসদ সদস্যরা যদি মনে করেন এবং আমি নিজেও মনে করি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়, সেভাবেই হওয়া উচিত। ওই সব দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। ইংল্যান্ডেও কাউন্সিলর ও মেয়র থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি পদে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনগুলো সংশোধন করে নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ দলীয় ব্যানারে যাতে হয় এবং সেখানে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ যাতে থাকে সে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
মন্ত্রীরা নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলা সবার কর্তব্য, এই আইনের যাতে কোন ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে আসলে বিএনপি যে কি চাচ্ছে, এটা বোধগম্য নয়। মানুষ খুন করা, বাসে, গাড়িতে, রেলগাড়িতে, লঞ্চে আগুন দেয়া বা রেল লাইন উপড়ে ফেলা এসব অপকর্মগুলো তারা যখন করে তখন তাদের কি জনগণের কথা মনে থাকে না? নিজেদের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত ধ্বংসাত্মক ও জঙ্গি কার্যকলাপ করছে। তারা নির্বাচন করবেন কি করবেন না, সেই দ্বিধাদ্বন্ধে কিছুদিন ভোগেছেন।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ নির্বাচন নিয়ে অনেক দাবি করে খুনাখুনী-ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে তারা নেমেছেন। এটা শুধু এই জানুয়ারি মাসে করেছে তা নয়। ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা দেড়শ’ মানুষকে হত্যা করেছে। কয়েক হাজার মানুষকে আহত করেছে। কোরআন শরীফে, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা এমন কোথাও নেই যেখানে তারা আগুন দেয়নি। রাস্তা কেটেছে, গাছ কেটেছে, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করেছে। তারপরেও তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না বলেও তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এত কিছুর পরেও যদি তারা পিছু হটার কৌশল খুঁজে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে সুর তুলে তাহলে তাদের দৃষ্টিতে কোনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এটা আসলে বোধগম্য নয়। তাদের এই সুরের পিছনে কোন বেসুর বাজে এটাই বোঝা মুশকিল।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে নির্বাচন করার জন্য যারাই প্রার্থী হচ্ছেন তাদের জন্য সকল সুযোগ রয়েছে। এখানে সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে।
তিনি বলেন, আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
