খুলনায় তিন কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৫, ২৩:৪৯

খুলনার ফুলতলা উপজেলা পরিষদের কাছে খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমিসহ স্কাউট ভবন ও সবুজ সংঘের জায়গা বেদখল হয়েছে। দখলদার ব্যক্তি ওই সরকারি জমিতে অবস্থিত ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পাকা ঘর তুলছেন। শুধু সরকারি জায়গা এবং স্কাউট ভবন ও সবুজ সংঘ নয়, পার্শ্ববর্তী এক বিধবা নারীর বসতবাড়িসহ আরো তিনজনের জায়গাও দখল করার অভিযোগ উঠেছে। সব দেখেও স্থানীয় প্রশাসন নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

এদিকে, সরকারি জমি দখলের তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে দখলকৃত জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে কঠোর বিবৃতি দিয়েছেন ফুলতলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বিবৃতিতে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রশাসন দ্রুত এই জমি উদ্ধার না করলে ক্ষুব্ধ জনগণই এই জমি উদ্ধার অভিযানে নামবে। তখন যদি কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে তাহলে প্রশাসনকে তার দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে।
সবুজ সংঘ কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিকটবর্তী ১৮ নম্বর দামোদর মৌজার এসএ ৩৪৩২ নম্বর খতিয়ানের দু’টি দাগের ২৯ শতক জমি অর্পিত সম্পত্তি। সমপ্রতি সরকার অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তকরণের আইন জারি করলে দখলদার ব্যক্তি ভুয়া ওয়ারেশ কাম সার্টিফিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় ভূমি অফিসের দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নামপত্তন করে জাল দলিলের মাধ্যমে উক্ত জমি দখল করে নেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ দিয়ে তদন্ত করে জানতে পারেন, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ ও ওয়ারেশ কাম সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ওই জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারেশ কাম সার্টিফিকেট বাতিল করে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি অফিসার ও ইউনিয়ন ভুমি উপসহকারী কর্মকর্তার নিকট তার অনুলিপি প্রদান করেন।
এই ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, এ জমিতে স্কাউট ভবন ও সবুজ সংঘ ক্লাব ছিল। তিনি দাবি করেন, তার কাছে মালিকানার কাগজপত্র আছে। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সংগঠনের সহ-সভাপতি এবং তার ভাই সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল বলে উল্লেখ করেন। তবে ওই রাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতি বলেন, তিনি (দখলদার) তাদের সংগঠনের সহ-সভাপতি এটা সত্য। কিন্তু তার এই কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব সংগঠন নেবে না।
সবুজ সংঘের সভাপতি ও ফুলতলা উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক গাজী নওশের আলী বলেন, জায়গাটি উদ্ধার করার জন্য আমরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন বলেন, আমি সরকারি জমিটি দখলমুক্ত করার জন্য ইউএনওকে বলেছি। কিন্তু তিনি আন্তরিক না হওয়ায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে সরকারি জমি দখলের নিন্দা ও অবিলম্বে দখলকৃত জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ফুলতলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে বলা হয়, একজন লোক প্রশাসনের নাকের ডগায় অন্যায়ভাবে দখল করা সরকারি জমিতে সীমানা প্রাচীর তুলে বাড়ি নির্মাণ করছেন। তারা জমিটি অবিলম্বে দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ ফকির বলেন, স্কাউট ভবনের জায়গায় প্রাচীর দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে শুনেছি। তবে ইউএনও লিখিতভাবে এখনও আমাকে কিছুই জানাননি। তিনি লিখিতভাবে জানালে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, কর্নেল সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, আমার ছোট ভাই বাড়ি করছে, তার কাছে নাকি কারা চাঁদা দাবি করেছে। আপনি ব্যাপারটি একটু দেখবেন। আমি ওনাকে জিডি করার কথা বলেছি। কিন্তু কেউ জিডি করে নাই।

ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্কাউটের সভাপতি লুলু বিলকিস বানু বলেন, নাম পত্তনের সময় জায়গাটির উপর স্কাউট ভবন আছে তা আমার জানা ছিল না। পরে কাগজপত্র খুঁজে পেয়ে জানতে পারি জমিটি সরকারি। জমির দাতা হিসাবে যে লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে- এ নামে কোন লোক ওই গ্রামে নেই। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিটি দখল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যেই জমিটি উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।