নানা সমস্যায় জর্জরিত রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার। ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারাগারে বর্তমানে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন কারাগারের জেলার, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দীরা। কারাগারে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। পাশাপাশি স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে চলছে বন্দীদের নিরাপত্তা প্রদান। এদিকে চলমান অবরোধে পুলিশী অভিযানের কারণে প্রতিদিনই বন্দীর সংখ্যা বাড়ছে। কারাগারের ধারণ ক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ কারাবন্দী হওয়ায় আবাসনসহ অন্যান্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে এটি কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হলেও আজ অবধি আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা হয়নি। কারাগারে বন্দী ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ২’শ ৭৯ জন। কিন্তু বর্তমানে আটক বন্দীর সংখ্যা ১ হাজার ৭শ’ ১ জন। ইতিমধ্যে ২টি পুরাতন ভবন অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে গড়ে উঠেনি কোন বহুতল ভবন। কারাগারের হাসপাতালটিও জরাজীর্ণ এবং ব্যবহারের অনুপযোগী। এছাড়া দীর্ঘদিনেও কারাগারে জনবলের সংখ্যা বাড়েনি। এখানে কারারক্ষীর পদ রয়েছে ১৫৫ টি। এর মধ্যে কিছু পদ শূন্য রয়েছে এবং অন্যান্য কারাগারে সংযুক্ত রয়েছে ২০ জন কারারক্ষী। এই কারাগারে জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীসহ অনেক দুর্ধর্ষ বন্দী আটক রয়েছে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতে কারাগারের জনবল বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, চতুর্দিকে আলোর ব্যবস্থা না থাকায় কারাগার প্রাঙ্গণ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। ফলে যে কেউ সহজেই প্রাচীর টপকে কারাগারে প্রবেশ করতে পারে। এতে কারা এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। কারা অভ্যন্তরের ড্রেন সংস্কার না করায় সব সময় পানি ও ময়লা জমে থাকে। কারাগারের ১৫ মিটার উঁচু সীমানা দেয়ালের স্থানে স্থানে প্লাস্টার ধসে পড়েছে। এটি আরও ৩ ফুট উঁচু করা প্রয়োজন। কারাগারে জরুরি ভিত্তিতে বৈদ্যুতিক ডাবল ফেজের সাব ষ্টেশন নির্মাণ, রিজার্ভ গার্ড হাউস ও সালামি মঞ্চের আধুনিকায়ন এবং নিরাপত্তা কোড মোতাবেক অস্ত্রাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন। এছাড়া কারাবন্দীদের উত্পাদিত পণ্য সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রয়ের জন্য শো-রুম নির্মাণ এবং তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন। বন্দীদের যুগোপযোগী ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত মঙ্গলবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শকদের ত্রৈমাসিক সভায় কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক রত্না রায় এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও কারা পরিদর্শক বোর্ডের সভাপতি জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ককে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, কারাগারের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি গুরুত্ব অনুযায়ী সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে।