‘ইরানের সঙ্গে খসড়া চুক্তি এক ঐতিহাসিক সমঝোতা’

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৫, ১৮:৪১
 
 
 
 
 
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান এবং ছয় বিশ্বশক্তির খসড়া সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোকে ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব নিরাপদ হবে বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সুইজারল্যান্ডের লুসানে আট দিনের আলোচনার পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সমঝোতার খসড়া ঘোষণা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইরান।
চুক্তির আওতায় ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমিয়ে আনবে। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে তুলে নেয়া হবে। এখন দেশটি এবং ছয় বিশ্বশক্তির চুক্তিটি চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ থাকবে।
এ দিকে, এ চুক্তি হওয়ায় ইরানের রাস্তায় রাস্তায় লোকজন উল্লাস করছে। কিন্তু ইসরাইল একে তাদের অস্তিত্বের ওপর হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘এটা একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে। এ ছাড়া, দেশটি যদি চুক্তির বরখেলাপ করে, বিশ্ব সেটি জানবে।’
ওবামা আরো বলেন, ‘অনেক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে একটি সামগ্রিক সমঝোতায় পৌঁছানো হলেও এটি হয়েছে মূলত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। এ ছাড়া, এর মধ্য দিয়ে আমাদের নিরাপত্তার একটি অন্যতম হুমকির সুরাহা করা যাবে এবং সেটা আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই করব।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘দুই পক্ষই পারস্পরিক অবিশ্বাস নিয়ে এত দিন কাটিয়েছে। কিন্তু এবার তাতে পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।
ওদিকে খসড়া চুক্তিতে বলা হয়েছে—তেহরান তার পারমাণবিক শক্তি দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার শর্তে পর্যায়ক্রমে পশ্চিমা অবরোধ তুলে নেয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) দেশটির সব ধরনের পরমাণু স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।  সেই সঙ্গে ইরান তার অব্যবহূত ইউরেনিয়াম এই সংস্থার কাছে তুলে দেবে। অবশ্য দেশটি যদি এই শর্তগুলো লঙ্ঘন করে তবে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
সমঝোতার খসড়ার ব্যাপারে তেহরান ও বিশ্বশক্তি সম্মত হলেও এর খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরো আলোচনা চলবে। এরপর আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক একটি চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। লুসানের বেউ-রিভেজ প্যালেস হোটেলে ছয় বিশ্বশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের এ আলোচনা চলে। গত ৩১ মার্চ আলোচনা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তির পথে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ায় সময় বাড়ানো হয়েছিল।