কামারুজ্জামানের সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ১৯:২৬
একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ’র শুনানি অনুষ্ঠিত হবে রবিবার। এরআগে শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন আইনজীবীরা।
 
আইনজীবী প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিশির মনির, এহসান এ সিদ্দিক, মশিউল আলম, মতিউর রহমান আকন্দ ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। তারা বেলা ১১টা ৭ মিনিটে  কারাগারে প্রবেশ করেন। কামারুজ্জামানের সঙ্গে আধা ঘণ্টার কিছু বেশি সময় কথা বলার পর বেরিয়ে আসেন তারা।
 
এরপর শিশির মনির কারাফটকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আধা ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ করেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ-স্বাভাবিক আছেন। মানসিকভাবে দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন আছেন।’ রিভিউ আবেদনের রায় তার পক্ষে আসবে বলেও আশা করছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই জামায়াত নেতা। রিভিউ নিষ্পত্তির পর ফের দেখা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে জানান শিশির মনির।
 
শিশির মনির বলেন, ‘নিষ্পত্তির পর উনি আইজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আমাদের জানাবেন।’ কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইবেন কি না জানতে চাইলে শিশির মনির বলেন, ‘উনি (কামারুজ্জামান) বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া বা না চাওয়ার বিষয়টি এখনও আসেনি। আগামীকাল রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হলে রায়টি উনি শুনবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে পরামর্শ করবেন।’
 
যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রবিবার।
 
রিভিউ আবেদনের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রবিবারের কার্যতালিকার ৬ নম্বরে রাখা হয়েছে। গত বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ শুনানির এই দিন ঠিক করে দেয়।
 
গতবছর ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের এই বেঞ্চই ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখে। এই আপিল বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও  বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
 
প্রসঙ্গত, শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরে ১২০ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে হত্যার দায়ে একাত্তরে ময়মনসিংহের আল বদর নেতা কামারুজ্জামানকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেন আদালত।
 
২০১৩ সালের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও কামারুজ্জামানকে ফাঁসির রায় এসেছিল। রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন এই যুদ্ধাপরাধী। কামারুজ্জামান হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার সর্বোচ্চ সাজার রায় কার্যকরের আগে রিভিউয়ের পর্যায়ে এসেছে।