দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও প্রবল ইচ্ছাশক্তির বলে রংপুরের ৪ যুবক এবারে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরীক্ষার্থীসহ সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অন্ধত্ব হার মেনেছে ওই ৪ যুবকের কাছে। মঙ্গলবার শুরু এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ফুলচান মিয়া, লিমন মিয়া, মোহাইমেনুল ইসলাম ও পিটার রতন ব্রেইল পদ্ধতির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১টি পরীক্ষা সফলতার সাথে শেষ করেছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ৪ যুবকের মধ্যে লিমন মিয়া ও পিটার রতন এতিম এবং ফুলচান ও মোহাইমেনুলের পিতা বেঁচে থাকলেও তারা দিনমজুরের কাজ করে কোনরকমে সংসার চালান।
রংপুর মহানগরীর চন্দনপাট এলাকার কৃষক আবুল হোসেনের পুত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ফুলচান মিয়া সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে সফলতার সাথে জেএসসি এবং এসএসসি পাস করেছে। সে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে শিক্ষা উপ-বৃত্তি পেয়ে থাকে। সে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষ করে একজন বড় সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়। মমিনপুর বড়ভিটা গ্রামের লিমন মিয়ার পিতা ইলিয়াছ মিয়া ৫ বছর আগে মারা গেছেন। মা রিক্তা বেগম বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটাসহ দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। ২০১০ সালের জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে লিমন। লেখাপড়া শেষ করে সে আদর্শ শিক্ষক হতে চায়। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ইয়াকুব আলীর পুত্র মোহাইমেনুল ইসলামের লেখাপড়ার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে সমাজসেবা কর্মকর্তা হতে চায়। সৈয়দপুরের মৃত, পিটার নিশি রায়ের পুত্র পিটার রতনের মা পিটার মালতি রায় অনেক কষ্ট করে তার ২ সন্তানকে মানুষ করছেন। পিটার সম্প্রতি প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপ-বৃত্তি অর্জন করে। সে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা হতে চায়।
