বিএনপিতে কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাইয়ে খোকা ও আব্বাসের লড়াই

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:২২
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া যত সহজ হচ্ছে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর মনোনয়নে ততটাই কঠিন। এমন অবস্থায় হিমশিম দশায় পড়েছে নীতিনির্ধারকরা। কারণ প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে তিনের অধিক বিএনপির সাবেক কমিশনার, নেতা-কর্মী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৯৩ টি ওয়ার্ডে দলের সাবেক ৭৫ জন কমিশনারের মধ্যে যারা দলে এখনো সক্রিয় তারা প্রায় সকলেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বাছাইয়ে টিকে গেছেন। এই অবস্থায় বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কমিটি করেছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে কয়েকটি উপ-কমিটি করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, প্রচারণাসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়। তবে দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতা জানান, কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সাদেক হোসেন খোকা এবং মির্জা আব্বাস বড় ভূমিকা রাখছেন বলে দলের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
 
খোকা এবং মির্জা আব্বাসের আধিপত্যের দ্বন্দ্ব পুরানো। তারা দু’জনই চাচ্ছেন প্রভাব খাটাতে। দলের হাইকমান্ড খোকার মনোনয়নকে বেশি প্রাধান্য দিতে চান। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ঢাকার মেয়র ছিলেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোকা বেশি ওয়াকেবহাল। পক্ষান্তরে খিলগাঁও-বাজারবাগ, শান্তিনগর, মালিবাগসহ সন্নিহিত এলাকা কেন্দ্রিক মির্জা আব্বাসের প্রভাব বেশী। চলমান আন্দোলনে মির্জা আব্বাসের ভূমিকায় খুশি নয় দলের হাইকমান্ড। তবে চেয়ারপার্সনের কারাবন্দী একজন অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা চান, মির্জা আব্বাসকে দিয়ে ওয়ার্ড কমিশনার মনোনয়ন করাতে। চেয়ারপার্সনের ওপর তার জোরালো প্রভাব রয়েছে।
 
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জামায়াত ঢাকার দুই খণ্ডে ৪০-৫০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিয়ে রেখেছে।
 
দলের গুলশানের কার্যালয়ে থাকা একজন নেতা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়া হবে। তাদের পক্ষেই কাজ করবেন নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। যে ওয়ার্ডগুলোতে সাবেক কমিশনাররা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে রাজপথের আন্দোলনে যাদের অবদান বেশি তাদের গুরুত্ব দেবে দল। দলের কাছে এখন প্রার্থী সমর্থনে মূল মাপকাঠি-আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগ এবং জনপ্রিয়তা।
 
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, একক প্রার্থী দেয়া হবে প্রতি ওয়ার্ডে। দলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কাজ চলছে। যারা পাস করতে পারবেন এবং প্রকৃত পক্ষে যোগ্য তাদেরই সমর্থন দেবে বিএনপি।
 
দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন জানা গেছে, গতবার যারা কমিশনার ছিলেন এবারো তাদের বেশিরভাগই নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক। সাবেক কমিশনারদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। একজন আওয়ামী লীগের সাথে মিশে গেছেন। চৌধুরী আলম দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। বাকিরা রাজনীতিতে এখনো সক্রিয় এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দলের দায়িত্ব পালন করছেন।
 
২০০২ এর ২৫ এপ্রিল সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে রাজধানীর ৯০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৫টিতেই বিজয়ী ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের কমিশনার। আর সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের ৩০টির মধ্যে ২৪ টিতেই ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও নির্বাচন না হওয়ায় দীর্ঘ আট বছর সিটি করপোরেশনের  মেয়র পদে বহাল থাকেন। তার সঙ্গে কমিশনাররাও বহাল ছিলেন। নেতারা জানান, অবিভক্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির স্থানীয় নেতারা কমিশনার হিসেবে প্রতাপের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে আসন্ন সিটি নির্বাচনে যারা কাউন্সিলর হিসাবে সমর্থন চাচ্ছেন তারা হলেন- এ বি এম এনামুল হক, মামুনুর রহমান ফজু, গোলাম হোসেন, শামসুল হুদা, এ ডি এম মোস্তফা বাদশা, আলহাজ্ব মকবুল আহম্মেদ আকন্দ, হারুনুর রশীদ, মির্জা খোকন, সাজ্জাদ জহির, খন্দকার আব্দুর রব, আবুল খায়ের বাবলু, সিরাজুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, মো. মজিবুর রহমান মজু, মোশারফ হোসেন খোকন, আলতাফ হোসেন, মীর আশরাফ আলী আজম, আনোয়ার পারভেজ বাদল, শহিদুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, আজিজ উল্লাহ, মো. মোহন, মোজাম্মেল হক, লিয়াকত আলী, মো. সেলিম, মো. আব্দুস সাহেদ মন্টু, হাজী লিয়াকত আলী, মো. আতিকুল্লাহ, বাদল সরদার, মোবারক হোসেন, আব্দুল রাশেদ, মীর হোসেন মীরু, মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, মুন্সী বজলুর রশিদ আঞ্জু, মিসেস ফেরদৌসী আহম্মেদ মিষ্টি, শামীম পারভেজ, রুনু আক্তার, কাজী হযরত আলী, আ ফ ম আব্দুল আলী নকী, আবুল কালাম আজাদ, রুহুল আমীন ভুঁইয়া, আনোয়ারুজ্জামান, আবু বকর সিদ্দিকী, আতিকুল ইসলাম মতিন, আবু সাঈদ বেপারী, নবীউল্লাহ নবী প্রমুখ। সাবেক কমিশনার মকবুল ইসলাম খান টিপু বাছাইয়ে বাদ পড়ে আপিল করেছেন।